শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
কমিটিতে আলেমদের প্রতিনিধিত্ব কমার অভিযোগ
এনসিপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে আলেমদের অবস্থান তুলে ধরে মাওলানা মাহদি লেখেন, ‘সংখ্যাটা চার থেকে দুইয়ে নেমে এসেছে। দুইজন মাইনাসের কারণ জানা নাই। আর যে দুইজনকে রাখা হলো, তাদেরও নামকাওয়াস্তে।’
তাঁর এই বক্তব্যে নতুন কমিটিতে আলেমদের প্রতিনিধিত্ব কমে আসা এবং তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ উঠে এসেছে।
আন্দোলনে ত্যাগ, কমিটিতে অবমূল্যায়ন?
স্ট্যাটাসে ধর্মীয় পরিচয়ধারী আলেমদের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় মাহদি লেখেন, ‘আপনার মাথায় টুপি আছে, শরীরে ধর্মীয় লেবাস আছে? আপনার কাজ শুধু আন্দোলনে রক্ত দেওয়া। আর সংগঠন মোটামুটি দাঁড় করিয়ে দিলে আপনার সিরিয়াল নিচের দিকে নামতে থাকবে।’
এ বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনে আলেমদের অবদান থাকলেও দলীয় কাঠামো গঠনের সময় তাঁদের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্র গঠন ও আইন প্রণয়নে আলেমদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ধর্মীয় বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য নিয়েও দলের ভেতরে আপত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি লেখেন, ‘ধর্মীয় ইস্যুতে আপনার কথাবার্তা নিয়েও ব্যাপক আপত্তি, যদিও আমরা মধ্যপন্থী।’
এরপর তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘আমাদের লাগবে মিলাদ পড়ানোর হুজুর। রাষ্ট্র আর আইনে আবার ধর্ম কী? রাষ্ট্র গঠন কারা করবে—এসব আমরা বিদ্বানরা আমাদের ভাই-ব্রাদারদের নিয়ে ঠিক করব।’
মাহদির বক্তব্যে এনসিপির নতুন কমিটিতে আলেমদের প্রতিনিধিত্ব, ধর্মীয় পরিচয়ের মূল্যায়ন এবং রাষ্ট্র গঠন ও আইন প্রণয়নে তাঁদের অংশগ্রহণের প্রশ্ন সামনে এসেছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ অনলাইন; মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদির ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে প্রকাশিত, ২৪ অক্টোবর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক