বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ দুপুর
  • ২১১০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
তেলের দরপতন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কমায় ঊর্ধ্বমুখী বাজার

বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা, অপরিশোধিত তেলের দাম কমে আসা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হওয়ার প্রভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর বাজার। সোমবার আগের সেশনে তিন মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর স্বর্ণের দাম আবারও প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের ওপরে উঠেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে শুক্রবার দাম কমে ৩ হাজার ৯৭৫ ডলারে নেমেছিল, যা গত ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।

ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের দিকে। বুধবার এ বিষয়ে ঘোষণা আসার কথা। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর পর এবার তা অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সুদের হার নিয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো নিয়মিত আয়বিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বাড়ে। ফলে সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের পরবর্তী পদক্ষেপ।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও বাজারে বিবেচনায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে বলে ধারণা করছেন কিছু বিনিয়োগকারী।

তেলের দাম কমায় স্বস্তি

স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ বব হ্যাবারকর্নের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম কমে আসা স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি আগের দরপতনের পর কম দামে স্বর্ণ কেনার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সোমবার তেলের দাম কমে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেলের দাম কমলে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে। তবে সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটলে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

হ্যাবারকর্নের ধারণা, ফেডের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগপর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের আশপাশে থাকতে পারে।

মূল্যস্ফীতির তথ্যেও নজর

বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিইর দিকেও। বৃহস্পতিবার সূচকটির তথ্য প্রকাশের কথা। মূল্যস্ফীতি পরিমাপে ফেডের পছন্দের এই সূচক থেকে সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার আশা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনও বাজারের আলোচনায় রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল দেশটির রাজস্বনীতি, শুল্ক, ভূরাজনৈতিক ব্যয় ও নীতিগত অনিশ্চয়তায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা মূল্যায়ন করছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব বিষয় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার, ডলারের বিনিময়মূল্য এবং স্বর্ণের বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ওসিবিসির বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad