বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুগান্তর।
যেভাবে ফাঁদে ফেলার চেষ্টাপুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনারের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতারকেরা প্রথমে অপরিচিত নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠায়। সেখানে দাবি করা হয়, ব্যবহারকারীর ব্যাংক হিসাব থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বার্তায় বলা হয়, ওই লেনদেন ব্যবহারকারী না করে থাকলে দ্রুত ‘নো’ লিখে উত্তর দিতে হবে।
এ ধরনের বার্তা দেখে আতঙ্কিত হয়ে উত্তর দিলে ব্যবহারকারী প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন সজ্জনার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ‘অটো-এক্সিকিউশন ফাইল অ্যাটাক’ নামে একটি কৌশলের কথা উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করতে তিনি একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছেন।
সজ্জনারের দাবি, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ব্যবহারকারীর মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণার শিকার একজন সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষকও হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিরাপদ থাকতে করণীয়অপরিচিত নম্বর থেকে ব্যাংক লেনদেনসংক্রান্ত বার্তা এলে আতঙ্কিত হয়ে ‘ইয়েস’ বা ‘নো’ লিখে উত্তর না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। সন্দেহজনক বার্তায় সাড়া না দিয়ে নম্বরটি ব্লক করা এবং বার্তাটি মুছে ফেলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক হিসাব থেকে সত্যিই টাকা কাটা হয়েছে কি না, তা জানতে হোয়াটসঅ্যাপের বার্তার ওপর নির্ভর না করে ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা আনুষ্ঠানিক গ্রাহকসেবা ব্যবহার করা উচিত। সন্দেহজনক বার্তার সঙ্গে আসা কোনো লিংকে প্রবেশ করা বা ফাইল ডাউনলোড করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
সতর্কতা: শুধু ‘নো’ লিখে উত্তর দিলেই ব্যাংক হিসাব খালি হয়ে যায়—এমন দাবির প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে বিস্তারিত নেই। তাই বিষয়টিকে নিশ্চিত প্রযুক্তিগত সত্য হিসেবে না ধরে, অপরিচিত নম্বরের সন্দেহজনক বার্তায় সাড়া না দেওয়া এবং ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন যাচাই করাই নিরাপদ।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক