গ্লোবাল সাউথ অপরচুনিটিজের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের কর্মসূচিতে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি থেকে সময়সীমা ও যোগ্যতার শর্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বৃত্তিতে কত টাকা পাওয়া যাবেপ্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত গবেষকেরা মাসে ২ হাজার ৫০০ ইউরো এবং এককালীন ৫০০ ইউরো স্থাপন ভাতা পাবেন। ১২ মাসের মাসিক ভাতা বাবদ মোট ৩০ হাজার ইউরো পাওয়া যাবে। এর সঙ্গে স্থাপন ভাতা যোগ হলে মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ হাজার ৫০০ ইউরো।
প্রতি ইউরোর বিনিময়মূল্য ১৩৮ টাকা ১৬ পয়সা ধরে হিসাব করলে ১২ মাসের ভাতা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এককালীন সহায়তাসহ মোট পরিমাণ প্রায় ৪২ লাখ ১৪ হাজার টাকা। বিনিময় হারের পরিবর্তনে টাকার অঙ্ক কমবেশি হতে পারে।
কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থাও থাকতে পারে। এসব সুবিধার পরিধি ও প্রযোজ্য শর্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা থেকে যাচাই করতে হবে।
যেসব বিষয়ে গবেষণার সুযোগজলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে এ কর্মসূচিতে পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো—
১. পৃথিবীর প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ও পরিবেশবিষয়ক বিজ্ঞান।
২. জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন।
৩. জ্বালানি রূপান্তর।
৪. পরিবেশগত সমস্যার সামাজিক প্রভাব।
৫. মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের সমন্বিত স্বাস্থ্য।
গবেষণা প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব, নতুনত্ব, গবেষণাপদ্ধতি এবং পরিবেশ ও সমাজের ওপর সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরতে হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেনপ্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, এ বৃত্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রারম্ভিক ক্যারিয়ারের গবেষকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত। পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন—এমন গবেষকেরা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে পারেন।
আবেদনকারীর গবেষণার বিষয় কর্মসূচির নির্ধারিত ক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। পাশাপাশি ফ্রান্সের উপযুক্ত কোনো গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বাবধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।
তবে পিএইচডি অর্জনের পর কত বছরের মধ্যে আবেদন করতে হবে, নাগরিকত্বসংক্রান্ত শর্ত কী এবং অন্য কোনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে ২০২৭ সালের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিআবেদনের প্রস্তুতি হিসেবে সাধারণত যেসব নথি প্রয়োজন হতে পারে—
গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনার তালিকাসহ জীবনবৃত্তান্ত।
পিএইচডি সনদ অথবা ডিগ্রি সম্পন্ন করার প্রমাণপত্র।
ফরাসি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়কের জীবনবৃত্তান্ত।
গবেষণায় সহায়তা বা তত্ত্বাবধানের প্রত্যয়নপত্র।
সুপারিশপত্র।
পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্রের অনুলিপি।
গবেষণার উদ্দেশ্য, পদ্ধতি, সময়সূচি ও সম্ভাব্য প্রভাবসংবলিত প্রস্তাব।
নথির নির্দিষ্ট ধরন, ভাষা, ফরম্যাট ও জমা দেওয়ার নিয়ম কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে।
যেভাবে আবেদন করবেনআগ্রহীদের প্রথমে এমওপিজিএ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দেখে যোগ্যতা ও আবেদনের শর্ত যাচাই করতে হবে। এরপর ফ্রান্সের উপযুক্ত গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন এবং গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুত করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের পর নির্দেশিত পদ্ধতিতে আবেদন জমা দিতে হবে।
গ্লোবাল সাউথ অপরচুনিটিজের প্রতিবেদনে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক সূত্রে তারিখটি নিশ্চিত না করে শেষ সময় ধরে নেওয়া উচিত নয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক