খাল-সংযোগ সড়ক ছাড়াই ৩ কোটি টাকার সেতু নির্মাণ, প্রশ্নে প্রকল্পের যৌক্তিকতা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৮ বিকাল
  • ৫৩২২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় খাল ও সংযোগ সড়কের অস্তিত্ব ছাড়াই প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি পিসি গার্ডার সেতু। ধূলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি তেত্রিশকানি এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুটির দুই পাশে নেই চলাচলের রাস্তা। আশপাশে দৃশ্যমান কোনো খালও নেই। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি আদৌ মানুষের কাজে আসবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় খালের অস্তিত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা ও মানুষের প্রয়োজন যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। তাদের আশঙ্কা, নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে থাকতে পারে।

তবে নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের দাবি, সেতুটি খালের ওপরই নির্মাণ করা হচ্ছে। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে দৃশ্যমান নেই।

প্রকল্পের কাজ শুরু ২০২৫ সালে

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ধূলাসার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গামতি তেত্রিশকানি এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের শেষদিকে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি সেতুটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কাজটির দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জসিম উদ্দিন খান। তবে ঠিকাদার পরিবর্তন ও কাজ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সেতুর দুই পাশে নেই রাস্তা

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির আশপাশে কয়েকটি বসতঘর থাকলেও সেখানে দৃশ্যমান কোনো খাল কিংবা সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত চলাচলের রাস্তা নেই। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, এলাকায় উন্নয়ন হোক, সেটি সবাই চান। কিন্তু যেখানে খাল ও রাস্তা নেই, সেখানে এত টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কী, তা বোধগম্য নয়। সেতু নির্মাণের আগে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা ও এলাকার বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, সেতু নির্মাণের উদ্দেশ্য মানুষের উপকার করা। কিন্তু এখানে সেতুর দুই পাশে যাওয়ার মতো রাস্তা নেই, খালেরও অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে না। তাহলে মানুষ কীভাবে সেতুটি ব্যবহার করবে? প্রকল্পের টাকা ব্যয় হলেই উন্নয়ন হয় না, সেই উন্নয়ন মানুষের কাজে আসতে হবে। তাঁর মতে, এলাকার মানুষের জন্য সেতুর চেয়ে একটি সাইক্লোন শেল্টার বেশি জরুরি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সেতুর নির্মাণকাজের কারণে আশপাশের কয়েকটি পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ি নিয়েও সমস্যার মুখে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে প্রকল্পটির বাস্তব প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।

খালের নকশা তৈরির অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দিন আগে খালের অস্তিত্ব না থাকায় ভেকু দিয়ে খালের নকশা তৈরির মতো কাজ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় প্রকল্প গ্রহণের আগে সরেজমিন পরিদর্শন, খালের অস্তিত্ব যাচাই এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সেতুটি স্থানীয়দের হাঁটাচলার সুবিধা দেবে। তবে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, নকশা, সম্ভাব্য উপকারভোগীর সংখ্যা, খালের অস্তিত্ব এবং পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন খান বলেন, পিসি গার্ডার সেতুটি খালের ওপরই নির্মাণ করা হচ্ছে। হয়তো খালটি বর্তমানে ভরাট হয়ে গেছে। প্রকল্পের ব্যয় প্রায় তিন কোটি টাকা। এটি আগের সরকারের আমলের প্রকল্প। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ২০২৫ সালের জুনের দিকে তাঁরা কাজ শুরু করেছেন।

প্রকল্পটির বাস্তব প্রয়োজনীয়তা, খালের অস্তিত্ব এবং সংযোগ সড়কের ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্নের মধ্যে সেতুটি নির্মাণের যৌক্তিকতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের দাবি




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad