সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা, জেলে ও বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের আতঙ্ক বন্ধের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানববন্ধন করেছেন বনজীবীরা। শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলার ভেটখালী বাজার চত্বরে নাগরিক সমাজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার শত শত জেলে ও বাওয়ালি অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। মাছ ও কাঁকড়া আহরণসহ বনজ সম্পদ সংগ্রহ করে হাজারো পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বনদস্যুদের অপতৎপরতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের আতঙ্কে জেলে-বাওয়ালিরা সুন্দরবনে যেতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এতে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে যাওয়া মানুষের জীবন নিরাপদ না হলে উপকূলীয় জনপদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। তাই পশ্চিম সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে বনদস্যুমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ও জোরালো অভিযান প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার, মুক্তিপণ আদায় বন্ধ এবং দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জেলে ও বাওয়ালিরা নিরাপদে সুন্দরবনে প্রবেশ, নির্বিঘ্নে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ এবং জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু বনজ সম্পদের আধার নয়, উপকূলীয় মানুষের বেঁচে থাকারও অন্যতম প্রধান অবলম্বন। তাই বন সংরক্ষণের পাশাপাশি বননির্ভর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
নাগরিক সমাজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বনদস্যু নির্মূল কমিটির সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের সভাপতি সালাউদ্দীন লিটন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রমজাননগর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সহিদুজ্জামান সহিদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী শাহ আলম, রমজাননগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম এবং রমজাননগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম লিটন।
সাধারণ জেলেদের পক্ষে বক্তব্য দেন সফিকুল ইসলাম ও আব্দুল গনি (টাইগার গনি)।
মানববন্ধন চলাকালে ‘মুক্তিপণের আতঙ্ক বন্ধ করো’, ‘ভয় নয়, নিরাপত্তা চাই’, ‘দস্যুমুক্ত সুন্দরবন চাই’ এবং ‘জেলে-বনজীবীদের নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা চাই’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক