যাদুকাটায় নির্মাণাধীন সেতুর ৫ গার্ডার নদীতে ধস, কারণ নিয়ে এলজিইডির ভিন্নমত

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১৯ মে ২০২৬, ০৬:৩২ বিকাল
  • ২০৪২৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

যাদুকাটায় নির্মাণাধীন সেতুর ৫ গার্ডার নদীতে ধস, কারণ নিয়ে এলজিইডির ভিন্নমত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘শাহ আরেফিন (রা.)-অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতু’র পাঁচটি গার্ডার নদীতে ধসে পড়েছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে চলমান প্রকল্পে এ ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে এলজিইডির দুই কর্মকর্তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গত রোববার রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তারা নদীর পাড়ে এসে দেখতে পান সেতুর কয়েকটি গার্ডার নদীতে পড়ে গেছে।

দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যায় ভিন্ন মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে গার্ডারগুলো নদীতে পড়ে যায়। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, আশপাশের গাছপালা ও ঘরবাড়ির তেমন ক্ষতি না হলেও শুধু ভারী গার্ডারগুলো কীভাবে ঝড়ে ধসে পড়ল।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ঝড়ের তত্ত্ব নাকচ করে বলেন, “বাতাসে বা ঝড়ে এমন হওয়ার কথা নয়। একটি গার্ডার অন্যটির ওপর পড়ে যাওয়ার পর চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে বাকি গার্ডারগুলো ধসে পড়ে।”

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ের ৭৫০ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের জুনে। তবে একাধিকবার সময় বাড়ানো হলেও এখনো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘসূত্রতা, অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলা এবং দুর্নীতির কারণেই প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব হয়েছে। ইতোমধ্যে গাফিলতির অভিযোগে তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গার্ডারগুলোর দায়ভার এলজিইডি বহন করবে না। প্রতিটি গার্ডার নির্মাণে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। পাঁচটি গার্ডার ধসে পড়ায় প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল থেকে সমন্বয় করা হবে।

সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে তাহিরপুর সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিমুল বাগান, বারিক টিলা, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নিলাদ্রী লেকে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে। এছাড়া বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্কস্টেশনের কয়লা ও পাথর ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগও কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এলজিইডির ডিজাইন ইউনিটের একটি বিশেষজ্ঞ দল মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad