আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার, আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সোহেল

  • এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:১৯ দুপুর
  • ২৭৮৩৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg


আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আগামী রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিচারক এজলাসে ওঠার পর মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের ঢাকা দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাটিকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

গত বুধবার মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এ সময় বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং জব্দ করা বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। শুনানিতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়টিও আদালতে আলোচিত হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও একপর্যায়ে আদালতের উদ্দেশে বলেন, “আমি নির্দোষ স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।” পরে তিনি আরও বলেন, “ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি, তাকেও ধরেন।”

অন্যদিকে, সহ-আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতকে জানান, “আমি কিছু করিনি।”

শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, শুরুতে নির্দোষ দাবি করলেও পরে সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নথিভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সোহেলের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি কিংবা তদন্ত নথিতে ‘ডলার’ নামে কারও সম্পৃক্ততার তথ্য নেই। শেষ মুহূর্তে এ ধরনের বক্তব্য বিচার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত বা বিলম্বিত করার কৌশল হতে পারে।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে এ মামলায় একটি দৃষ্টান্তমূলক রায় আসবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আশাবাদী।

আসামিপক্ষের রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ জানান, বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন।

গত মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। নিহত রামিসার বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তদন্তে জব্দ করা কাটা গ্রিলসহ বিভিন্ন আলামতও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়।

মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad