রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাইল রাষ্ট্রপক্ষ, রোববার রায়

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৪ জুন ২০২৬, ১০:২৪ রাত
  • ৩২০০১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ আদেশ দেন। চার কার্যদিবসের মধ্যেই বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটি আলোচনায় এসেছে।

সকালে কারাগার থেকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের কাঠগড়ায় তোলার পর রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু লিখিত ও মৌখিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রধান আসামি সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেন এবং এ ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন সহযোগিতা করেন। হত্যার পর সোহেল রানা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগও করে দেন তিনি।

প্রসিকিউশনের দাবি, আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সোহেল রানা নিজ অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। সে কারণে দুই আসামির বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্কে বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি। এছাড়া ঘটনার সময় সোহেল রানা নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে দাবি করে তার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রার্থনা করা হয়। স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যায় জড়িত থাকার প্রমাণ নেই উল্লেখ করে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় সাত বছরের সাজা চাওয়া হয়।

এর আগে গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে টানা সাক্ষ্যগ্রহণে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তারসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন কৌশলে রামিসাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়।

ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে স্বপ্না খাতুনকে ঘটনাস্থল থেকে এবং সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad