দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামলেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটালেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের সর্বশেষ ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। এরপর গুরুতর চোট ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। ক্লাব ফুটবলে ফিরলেও জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের পথ সহজ ছিল না। একাধিক শারীরিক জটিলতায় বারবার পিছিয়ে যায় তার ফেরা।
তবে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের ওপর আস্থা রাখেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হলেও প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামানো হয়নি। ফলে সমর্থকদের প্রতীক্ষাও দীর্ঘ হয়।
অবশেষে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তখন ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোলের পর ৬০ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন ম্যাথিউস কুনহা।
ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে কুনহার পরিবর্তে মাঠে নামেন নেইমার। সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। দীর্ঘ ইনজুরি-সংগ্রামের পর জাতীয় দলের জার্সিতে তার প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করে।
নেইমার মাঠে নামার আগেই জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছিল সেলেসাওরা। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে তার প্রত্যাবর্তন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৭৯ গোলের মালিক এই তারকা আবারও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামায় স্বস্তি ফিরেছে ব্রাজিল শিবিরে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আগে নেইমারের ফেরা ব্রাজিলের জন্য বড় শক্তিবৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা ও আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার সামর্থ্যের কারণে শিরোপা জয়ের দৌড়ে দলটির সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স