বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা প্রত্যাশামতো জয় পেলেও সেই জয় মোটেও সহজ ছিল না। গোলরক্ষক ভোজিনহার অনবদ্য নৈপুণ্য আর কেপ ভার্দের দুর্দান্ত লড়াইয়ে দীর্ঘ সময় চাপে ছিল লিওনেল মেসির দল। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চে ৩-২ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে প্রথম সুযোগ পান অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তিন মিনিট পর ফ্রি-কিক থেকেও গোলের চেষ্টা করেন তিনি। এরপর ১৯ মিনিটে নাহুয়েল মোলিনার পাস থেকে নেওয়া তার শটও দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা।
রক্ষণাত্মক কৌশলে খেললেও সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা চালায় কেপ ভার্দে। তবে আর্জেন্টিনার সুশৃঙ্খল রক্ষণ প্রথমার্ধে তাদের বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে অবশেষে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সংকীর্ণ কোণ থেকেও দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জালে বল জড়ান মেসি।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তি গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পাশাপাশি ৩৯ বছর ৯ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করা সবচেয়ে বয়স্ক দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলারের রেকর্ডও নিজের করে নেন তিনি।
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ভোজিনহার অসাধারণ গোলকিপিংয়ে আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ১-০ ব্যবধানে এগিয়েই বিরতিতে যায় তারা।
বিরতির পর পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৯তম মিনিটে রায়ান মেন্ডেসের ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো নিচু ক্রস এমিলিয়ানো মার্তিনেজের পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান ডেরয় দুয়ার্তে।
সমতা ফেরার পর আবারও আক্রমণের ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা। মেসি, এনজো ফার্নান্দেজ, নিকোলাস গনসালেস ও হুলিয়ান আলভারেজ একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ভোজিনহার দুর্দান্ত সেভে গোলের দেখা মিলছিল না। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৯২তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে জোরালো শটে গোল করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
তবে হার মানেনি কেপ ভার্দে। ১০৩তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দৃষ্টিনন্দন বাঁকানো শটে জালের টপ কর্নারে বল পাঠিয়ে আবারও সমতা ফেরান সিডনি লোপেজ কাবরাল। এরপরও ভোজিনহা একাধিক অবিশ্বাস্য সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
শেষ পর্যন্ত ১১১তম মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ওঠা বলে হেড দেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। বলটি কেপ ভার্দের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে সেটিকে আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য করা হয়। এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল কেপ ভার্দে। তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয়ে নাটকীয় এক লড়াই শেষে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
পরাজিত হলেও কেপ ভার্দে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। বিশেষ করে গোলরক্ষক ভোজিনহার অসাধারণ নৈপুণ্য পুরো ম্যাচজুড়েই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে বারবার হতাশ করেছে। অন্যদিকে মেসির গোল, লিসান্দ্রো মার্তিনেজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এবং শেষ মুহূর্তের আত্মঘাতী গোলে স্বস্তির জয় নিয়ে শেষ আটে উঠল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স