হারতে বসেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল লিওনেল স্কালোনির দল। তবে অধিনায়ক লিওনেল মেসির অনবদ্য নৈপুণ্য এবং এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল।
ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে যোগ করেছেন আরও একগুচ্ছ রেকর্ড। একই সঙ্গে দল হিসেবেও একাধিক অনন্য কীর্তি গড়েছে আর্জেন্টিনা।
এক নজরে মেসির নতুন রেকর্ড
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ ও শেষ ষোলোতেও গোল করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের এক আসরের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করা মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার এখন মেসি। এর আগে এই তালিকায় ছিলেন জ্যঁ ফন্তেইন (১৯৫৮), জাইরজিনহো (১৯৭০), গার্ড মুলার (১৯৭০), রিভালদো (২০০২) এবং হামেস রদ্রিগেস (২০১৪)।
ম্যাচের ২০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হলেন তিনি। বিশ্বকাপে নেওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে চারটিই মিস করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এই ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করার মাধ্যমে বিশ্বকাপ নকআউটে তৃতীয়বার একই ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়লেন মেসি, যা একটি নতুন রেকর্ড।
বিশ্বকাপ নকআউটে মেসির গোলসংখ্যা এখন সাত, যা পেলে, ভাভা ও ওল্ডরিচ নেজেডলির সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
চলতি বিশ্বকাপে মেসির গোল এখন আটটি। এতে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকাপের এক আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে গুইলের্মো স্তাবিলের পাশে বসিয়েছে মেসিকে।
বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে নয়, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই কীর্তিতে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।
বিশ্বকাপে টানা নয় ম্যাচে গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। এর আগে কোনো খেলোয়াড় বা দল এমন ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি।
বিশ্বকাপের নকআউটে মেসির সরাসরি গোল অবদান এখন ১৪টি—সাত গোল ও সাত অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে এটিই সর্বোচ্চ।
আর্জেন্টিনার দলীয় রেকর্ড
বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিট বাকি থাকতে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় পাওয়া প্রথম দল এখন আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের এক আসরে নিজেদের প্রথম পাঁচটি ম্যাচই জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। এর আগে ২০১৪ সালে এমন কীর্তি গড়েছিল তারা।
চলতি বিশ্বকাপে ৭৬ মিনিটের পর আর্জেন্টিনা করেছে আটটি গোল, যা ১৯৫৪ সালের পশ্চিম জার্মানির রেকর্ড স্পর্শ করেছে।
বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত থেকে নিজেদের নতুন রেকর্ড গড়েছে আর্জেন্টিনা।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচে একাধিক গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েছে আলবিসেলেস্তেরা, যা উরুগুয়ের দীর্ঘদিনের রেকর্ডের সমতায় পৌঁছেছে।
মিসরের বিপক্ষে এই স্মরণীয় জয় শুধু আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেনি, বরং লিওনেল মেসির কিংবদন্তি ক্যারিয়ারে যোগ করেছে আরও একগুচ্ছ ঐতিহাসিক অধ্যায়। দলীয় সাফল্য ও ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে ম্যাচটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স