ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আধুনিক ফুটবলের এক অসাধারণ প্রদর্শনী উপহার দিল স্পেন। ম্যাচজুড়ে বলের দখল, কৌশলগত আধিপত্য এবং দুর্দান্ত প্রেসিং ফুটবলে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
ম্যাচের আগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলাকে ঘিরে ছিল ফ্রান্সের আক্রমণভাগের যত আলোচনা। তবে মাঠে নেমে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ও মাঝমাঠের দাপটে সেই আক্রমণভাগ কার্যত নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। পুরো ম্যাচে ফরাসিরা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতেই পারেনি।
শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে ফ্রান্সকে তীব্র চাপে রাখে স্পেন। প্রতিপক্ষ বল পেলেই চারদিক থেকে প্রেসিং, মাঝমাঠে দ্রুত বল আদান-প্রদান এবং নিখুঁত পজিশনিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।
১৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্পেন। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়া লামিন ইয়ামালকে পেছন থেকে ফাউল করেন লুকাস দিনিয়ে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে মিকেল ওয়ারজাবাল জোরালো শটে গোল করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোলরক্ষক মাইক মেইনিয়ান সঠিক দিকে ঝাঁপিয়েও বল ঠেকাতে পারেননি।
গোলের পর রক্ষণাত্মক না হয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্পেন। মাঝমাঠে রদ্রি খেলাটি দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। ফ্যাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমোর সঙ্গে সমন্বয়ে বারবার ফ্রান্সের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল নিজের গতিময় ফুটবলে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন।
প্রথমার্ধে এমবাপ্পে একবার সুযোগ পেলেও গোলরক্ষক উনাই সিমনের দ্রুত এগিয়ে আসায় সেই আক্রমণ ভেস্তে যায়। বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে স্পেন।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় ফ্রান্স। তবে তারা যতই সামনে এগোতে থাকে, ততই পাল্টা আক্রমণের সুযোগ বাড়তে থাকে স্পেনের।
৬৭তম মিনিটে আসে ম্যাচের নিষ্পত্তি। মাঝমাঠ থেকে রদ্রির নিখুঁত পাস পেয়ে দানি ওলমো বল বাড়িয়ে দেন পেদ্রো পোরোর দিকে। ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে গিয়ে পোরো নিচু ক্রসে বল পাঠান জালে। এতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন এবং ম্যাচ কার্যত নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেয়।
শেষ দিকে ফ্রান্স বলের দখল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও এমবাপ্পে, দেম্বেলে, ওলিসে কিংবা বারকোলা—কেউই স্পেনের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেননি। পুরো ম্যাচজুড়ে ফরাসি আক্রমণভাগকে কার্যত বোতলবন্দি করে রাখে স্প্যানিশরা।
এই জয়ে শুধু গোলদাতারাই নয়, স্পেনের সামগ্রিক কৌশল, শৃঙ্খলা ও দলগত ফুটবলই ছিল সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। লুইস দে লা ফুয়েন্তের পরিকল্পনা মাঠে নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে স্পেন।
আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স