৪ আগস্ট কুমিল্লায় ছাত্র-জনতার পক্ষে সেনাবাহিনীর অবস্থান, বদলে যায় আন্দোলনের গতি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ দুপুর
  • ১৮৯৫৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কুমিল্লার রাজপথে ছাত্র-জনতার ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। আন্দোলনসংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ কুমিল্লার আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয় এবং পরদিন ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পটভূমি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট সকাল থেকেই কুমিল্লার কোটবাড়ী বিশ্বরোড, আলেখারচর বিশ্বরোড, ঝাগুরঝুলি ও আশপাশের এলাকায় ছাত্র-জনতার অবস্থান জোরদার হতে থাকে। বেলা প্রায় ১১টার দিকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে একটি মিছিল আলেখারচর বিশ্বরোডের দিকে অগ্রসর হলে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে সেনাবাহিনী প্রথমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। তাদের ভাষ্য, দুপুরের দিকে সেনাবাহিনীর উপস্থিতির পর আন্দোলনকারীরা নতুন করে সাহস পায়। এরপর আলেখারচর বিশ্বরোড, ঝাগুরঝুলি ও কোটবাড়ী বিশ্বরোড এলাকায় ছাত্র-জনতার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

ওই দিন আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, "যখন দেখেছি ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হচ্ছে, তখন আর স্থির থাকতে পারিনি। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও আমরা সহযোগিতা পেয়েছি।"

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু বলেন, "৪ আগস্ট চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আমাদের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছিল। ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মীরাও আগে থেকেই ছাত্র-জনতার সঙ্গে ছিল। পরে সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিছু হটে।"

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লার আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, "৪ আগস্ট কুমিল্লার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এদিনের প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে আমরা কুমিল্লায় আওয়ামী লীগকে মাঠ থেকে বিদায় করি।"

আন্দোলনসংশ্লিষ্টদের মতে, ৪ আগস্টের প্রতিরোধ কুমিল্লার আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয় এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad