ওয়াটারএইডের ৪০ বছর পূর্তি: মানুষের জীবন বদলের গল্প নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪০ বিকাল
  • ৪০৪১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে চার দশকের পথচলা উদ্‌যাপন করছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটারএইড। সংস্থাটির ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এতে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে মানুষের জীবন পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে ৪০টি আলোকচিত্রে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশে (আইএবি) এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। ওয়াটারএইডের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হাসিন জাহান প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী।

আয়োজনে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সহযোগী ও দাতা সংস্থার সদস্য, সাবেক কর্মী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

প্রদর্শনীতে আলোকচিত্রের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবদানের স্বীকৃতি, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি ট্যুর এবং অডিওভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সুযোগ মানুষের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও জীবনযাত্রায় কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, তা তুলে ধরা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসিন জাহান বলেন, বাংলাদেশে ওয়াটারএইডের চার দশকের পথচলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়; বরং যেসব জনগোষ্ঠী, সহকর্মী, সহযোগী ও প্রতিষ্ঠান এই অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রেখেছে, তাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতামত ও নেতৃত্ব ওয়াটারএইডের কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে। এ অর্জনকে ভিত্তি করে সবার জন্য পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ুসহিষ্ণু ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, সংস্থাটির চার দশকের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ছিল নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং সেবাব্যবস্থা শক্তিশালী করা। এ আয়োজন সেই অগ্রযাত্রায় অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান জানানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সেবা নিশ্চিত করাই ওয়াটারএইডের লক্ষ্য। এ মাইলফলক ভবিষ্যতে আরও উদ্যম ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে ওয়াটারএইড। এরপর থেকে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনগোষ্ঠী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি। সেবাবঞ্চিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ুসহিষ্ণু সমাধান প্রসারে কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রদর্শনীর আলোকচিত্রগুলোতে মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা কীভাবে স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং জীবনযাপনের সম্ভাবনা বাড়ায়, তা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে এখনো সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে এসব সুবিধা পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব পেয়েছে।

উদ্বোধনী দিনের কর্মসূচিতে সহযোগী সংস্থা ও সাবেক কর্মীদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন, তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে জেন্ডার সমতা নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া সংস্থাটির দীর্ঘ পথচলায় যুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্মিলন, স্মৃতিচারণ ও মতবিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রদর্শনীটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ওয়াটারএইড বাংলাদেশ প্রদর্শনী পরিদর্শনে আগ্রহীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad