আপনার কোথায় কোথায় জমি, ঘরে বসেই জানবেন যেভাবে

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১০ দুপুর
  • ৪১৪১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
খতিয়ান, দাগ ও মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ অনলাইনে; তবে একসঙ্গে সব জেলার জমির তালিকা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই

নিজের নামে কোথায় কত জমি রয়েছে, কোন জেলা বা মৌজায় জমির রেকর্ড আছে—এসব তথ্য জানতে এখন আর সব ক্ষেত্রে ভূমি অফিসে যেতে হয় না। সরকারি বিভিন্ন অনলাইন সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর ও মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। তবে শুধু নাম বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে দেশের সব জেলায় থাকা জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ নেই। এ জন্য সম্ভাব্য প্রতিটি এলাকার রেকর্ড আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়।

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, ভূমি মন্ত্রণালয়ের পোর্টাল এবং অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর সেবার মাধ্যমে এ অনুসন্ধান করা সম্ভব। এসব সেবায় পাওয়া তথ্যের সঙ্গে জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা মিলিয়ে দেখলে মালিকানা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

খতিয়ান অনুসন্ধান করবেন যেভাবে

নিজের নামে জমির রেকর্ড খুঁজতে প্রথমে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর কয়েকটি ধাপে অনুসন্ধান করা যায়।

প্রথম ধাপ: এলাকার তথ্য নির্বাচন

ওয়েবসাইটে বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা, জরিপের ধরন এবং মৌজার তথ্য নির্বাচন করতে হবে। জমির অবস্থান জানা থাকলে অনুসন্ধান সহজ হবে। পুরোনো দলিল বা খতিয়ান থাকলে সেখান থেকে মৌজা ও দাগ নম্বর সংগ্রহ করা যেতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপ: মালিকের তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান

অনুসন্ধান ফর্মে নির্দেশনা অনুযায়ী মালিকের নাম, পিতা বা মাতার নাম, খতিয়ান নম্বর কিংবা দাগ নম্বর দিয়ে তথ্য খোঁজা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিচিতিমূলক তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।

তৃতীয় ধাপ: পাওয়া রেকর্ড যাচাই

অনুসন্ধানে খতিয়ান পাওয়া গেলে মালিকের নাম, পিতা বা মাতার নাম, খতিয়ান ও দাগ নম্বর নিজের কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই শুধু নামের মিল দেখে কোনো জমিকে নিজের বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

চতুর্থ ধাপ: খতিয়ানের কপি সংগ্রহ

খতিয়ানের বিস্তারিত তথ্য বা সরকারি কপি প্রয়োজন হলে ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন করা যায়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হতে পারে।

একাধিক জেলায় জমি থাকলে

একাধিক জেলা বা উপজেলায় জমি থাকলে একটি এলাকার তথ্য অনুসন্ধান করেই সব জমির খোঁজ পাওয়া যাবে না। সম্ভাব্য প্রতিটি এলাকার রেকর্ড আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনটি সরকারি অনলাইন সেবা কাজে লাগতে পারে।

১. ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর

ওয়েবসাইট: https://settlement.gov.bd/

এখানে সংশ্লিষ্ট এলাকার খতিয়ান অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। তবে সব এলাকার সব ধরনের রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। চলমান জরিপের কিছু রেকর্ড খসড়া পর্যায়েও থাকতে পারে।

২. ভূমি মন্ত্রণালয়ের পোর্টাল

ওয়েবসাইট: https://land.gov.bd/

এ পোর্টাল থেকে ভূমি রেকর্ড, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সেবায় প্রবেশ করে জমির তথ্য যাচাই করা যায়।

৩. অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর সেবা

ওয়েবসাইট: https://ldtax.gov.bd/

এ সেবায় নিবন্ধিত প্রোফাইলের সঙ্গে যুক্ত খতিয়ান ও হোল্ডিংয়ের তথ্য দেখা যায়। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সচল মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ এবং দাখিলা বা খারিজ খতিয়ানের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।

তবে ভূমি উন্নয়ন করের প্রোফাইলে থাকা জমির তথ্যই কোনো ব্যক্তির নামে থাকা সব জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়। অন্য এলাকায় থাকা জমি বা প্রোফাইলে যুক্ত না হওয়া রেকর্ড সেখানে দেখা নাও যেতে পারে।

মোট জমির পরিমাণ বের করবেন যেভাবে

বিভিন্ন এলাকায় জমি থাকলে মোট পরিমাণ নির্ধারণের জন্য প্রতিটি জমিতে নিজের মালিকানার অংশ হিসাব করতে হবে। এ জন্য দলিল, খতিয়ান, নামজারির কাগজ, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা এবং উত্তরাধিকারসংক্রান্ত নথি একসঙ্গে রাখা জরুরি।

প্রথমে প্রতিটি জমির জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর আলাদা করে লিখে নিতে হবে। এরপর সরকারি সেবায় সংশ্লিষ্ট এলাকার রেকর্ড অনুসন্ধান করে নিজের মালিকানার অংশ যাচাই করতে হবে। সব জমির পরিমাণ একই এককে রূপান্তর করে যোগ করলেই মোট জমির হিসাব পাওয়া যাবে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো খতিয়ানে ৩০ শতক জমি থাকলেও সেখানে আপনার মালিকানা এক-তৃতীয়াংশ হলে আপনার অংশ হবে ১০ শতক। অন্য জমির ক্ষেত্রেও একইভাবে মালিকানার অংশ হিসাব করতে হবে।

অনলাইনে রেকর্ড না পেলে করণীয়

অনলাইনে নাম লিখে জমির রেকর্ড না পাওয়া মানেই ওই ব্যক্তির নামে জমি নেই, এমন নয়। রেকর্ড অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া, নামের বানানে পার্থক্য, ভুল মৌজা নির্বাচন কিংবা নামজারি হালনাগাদ না থাকার কারণে তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে। আবার সংশ্লিষ্ট জরিপের রেকর্ড অনলাইনে অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত না-ও থাকতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে পুরোনো দলিল, খতিয়ান ও দাগ নম্বর ধরে পুনরায় অনুসন্ধান করতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে রেকর্ড যাচাই করা যেতে পারে। ভূমিসংক্রান্ত সরকারি সহায়তার জন্য ১৬১২২ নম্বরেও যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

তথ্য যাচাইয়ে সতর্কতা

জমির তথ্য অনুসন্ধানের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য কেবল সরকারি ওয়েবসাইটে প্রয়োজন অনুযায়ী দিতে হবে। অপরিচিত ব্যক্তি বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটে দলিল ও পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

একই নামে একাধিক ব্যক্তির রেকর্ড পাওয়া গেলে পিতা বা মাতার নাম, মৌজা, দাগ ও খতিয়ান নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। অনলাইনে পাওয়া খসড়া রেকর্ডকে চূড়ান্ত মালিকানার প্




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad