সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে একটাই সমাধান—সংস্কারের পথে যেতে হবে।’ সংস্কার হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যোগ্য ব্যক্তিদের আসার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট রয়েছে উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট রয়েছে, এটা আমরা অস্বীকার করি না। কিন্তু সেই সংকট মোকাবিলা করার সক্ষমতা যে বিএনপি সরকারের নেই, এটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, এনসিপি এবং বিরোধীদলীয় জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে জ্বালানি সংকট সমাধানে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার সেসব প্রস্তাব অনুযায়ী সমাধানের পথে এগোয়নি।
‘সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকতার’ অভিযোগজ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে দাবি করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, পেট্রলপাম্পে সাধারণ পথচারী, মোটরসাইকেল চালক, ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ও উবারচালকদের সঙ্গে সাংবাদিকেরা কথা বলেছেন। তাঁদের অনেকেই ভয়ে কথা বলতে চাননি বলে দাবি করেন তিনি। সরকারের সমালোচনা করলে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা।
সরকারের বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকতার’ অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি সরকারকে দুর্নীতির অভিযোগে যেভাবে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারও সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে।
নাসীরুদ্দীন বলেন, আট দফা দাবিতে তাঁদের লং মার্চ হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সরকারের সামনে এখন এক দফা দাবির পথই খোলা রয়েছে। ১১ দলীয় জোটকে নিয়ে সরকার ভুল হিসাব করলে জনগণই রাজপথে জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, শেখ হাসিনাও জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। একইভাবে ‘নতুন সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে তারেক রহমানও জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ব্যাখ্যার সমালোচনা করে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ডের টাকা জোগাড়ের জন্য’ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ানোর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।
তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার ‘রিপ্লেসমেন্ট’ আখ্যা দিয়ে নাসীরুদ্দীন বলেন, তাঁরা ‘সিস্টেম’ পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু বিএনপি শেখ হাসিনার পরিবর্তে তারেক রহমানকে বসানোর মাধ্যমে একই ব্যবস্থা বজায় রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংস্কারের পথে না যাওয়ায় সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তাঁর দাবি, সরকারের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এনসিপি রাজপথে নেমেছে।
তিনি বলেন, উবার ও পাঠাওচালক, পরিবহন খাতের কর্মীসহ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেই তাঁরা আন্দোলনে এসেছেন।
বাংলামোটরে বিক্ষোভসোমবার রাত ৮টার দিকে বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক ঋআজ মোর্শেদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মিছিলটি পরীবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক