সাতকানিয়ায় ৯ দিনে দুই খুন, কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ দুপুর
  • ৮১২১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দুটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও সড়কে কিশোরদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও সংঘাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেরানীহাট, রাস্তার মাথা, উপজেলা সদর, মৌলভির দোকান, জুটপুকুরিয়া বাজার, ফুলতলা ও ঠাকুরদীঘিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আড্ডা ও চলাচল দেখা যায়। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া, প্রকাশ্যে মারামারি, হট্টগোল এবং পথচারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এতে বিশেষ করে সন্ধ্যার পর গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও সড়কে চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নয় দিনের ব্যবধানে দুই হত্যাকাণ্ড

গত ৩০ আগস্ট রাতে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নে জাহেদুল ইসলাম জাহেদ ওরফে পিচ্চি জাহেদকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে তার গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায় তারা। রক্তাক্ত অবস্থায় জাহেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর নয় দিন পর ৮ সেপ্টেম্বর রাতে কেরানীহাট সিটি সেন্টার এলাকায় হামিম (১৯) নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়ার সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাদের দাবি, কোনো অপরাধের পর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা পৃষ্ঠপোষক ও কথিত গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কেরানীহাটে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

কেরানীহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, সাতকানিয়ার ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র কেরানীহাট। বর্তমানে কিশোর গ্যাং সদস্যদের অতিরিক্ত উপস্থিতি ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিশোর গ্যাং সদস্য ও তাদের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব নয়।

তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস

সাতকানিয়ায় নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, তিনি সবে সাতকানিয়ায় যোগ দিয়েছেন। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা করে পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইতোমধ্যে অনেক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সাম্প্রতিক অপরাধপ্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি অপরাধ বেড়েছে এবং মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পরিস্থিতির উত্তরণে প্রশাসনকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, সাতকানিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও জনবহুল এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানোর পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad