আকস্মিক ঝড়ে ৫৩ হেক্টর কলা-পেঁপের বাগান লন্ডভন্ড, ক্ষতির মুখে কয়েকশ কৃষক

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২০ দুপুর
  • ৬২৩১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মধুপুরে আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলা, পেঁপে, আনারস ও বিভিন্ন সবজির বাগান। বুধবার দুপুরে কয়েক মিনিটের ঝড়েই উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকার বিস্তীর্ণ বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে প্রাথমিক হিসাবে ২৭ হেক্টর কলা ও ২৬ হেক্টর পেঁপের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন কয়েকশ কৃষক।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ প্রবল বাতাসসহ ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিভিন্ন এলাকার কলাগাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ে। একই সঙ্গে পেঁপে, আনারস ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক বাগানে ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে আসায় কৃষকদের ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়েছে।

৫৩ হেক্টর কলা-পেঁপের বাগানে ক্ষতি

মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় প্রায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। আনারস ও বিভিন্ন সবজি বাগানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই পাঁচ এলাকায় ২৭ হেক্টর কলা ও ২৬ হেক্টর পেঁপের ব্যাপক ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

পুঁজি হারানোর শঙ্কা কৃষকদের

কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিনের শ্রম, অর্থ ও পরিচর্যার পর বাগানগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময় এসেছিল। অনেকেই ধারদেনা ও সঞ্চয়ের অর্থ বিনিয়োগ করে কলা, আনারস ও পেঁপের বাগান করেছেন। আকস্মিক ঝড়ে বাগান নষ্ট হওয়ায় তাদের সেই বিনিয়োগ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, আনারস ও কলাবাগানে তিনি জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি ব্যয় করেছেন। ফসল ভালো হলে পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানোর আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে মুহূর্তের মধ্যে সেই আশা ভেঙে গেছে।

কৃষকদের ভাষ্য, একটি কলাগাছ ভেঙে পড়ার সঙ্গে শুধু একটি গাছের ক্ষতি হয় না; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কৃষকের শ্রম, ঋণ, বিনিয়োগ ও পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। ফলে ব্যাপক বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দাবি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান পরিদর্শন করে পুনরায় চাষাবাদে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি-প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad