সৌদি যুবরাজ-আমিরাত-নেতানিয়াহুর ২০০ কোটি ডলারের গোপন লেনদেন

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৫ বিকাল
  • ১৯৭১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ডিজিটাল নজরদারিতে মিলেছে কথিত ব্যাংক হিসাবের তথ্য, অভিযোগ অস্বীকার সাবেক মার্কিন উপদেষ্টার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরাইলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের কথিত গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাথু কোলের নতুন বই প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস-এর একটি অংশে এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য এখানে নেই। কুশনার ও তাঁর আইনজীবী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আইফোনে নজরদারি থেকে ব্যাংক হিসাবের তথ্য?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডসের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এক রুশ হ্যাকারের সহায়তায় কুশনারের আইফোনের কার্যক্রমে নজরদারির সুযোগ পায়। সেখান থেকে তাঁর কথিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও আর্থিক নথিপত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে বইটিতে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত বইটির অংশে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে ‘আলফা’ নামে একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, আজারবাইজানের একটি ব্যাংকের গোপন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে রিয়াল ও দিরহাম ডলারে রূপান্তর করে ওই অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো। আমিরাতের একটি সামরিক সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থার আড়ালে তহবিলটি পরিচালিত হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। কথিত অ্যাকাউন্টের গোপন স্বাক্ষরকারীদের একজন হিসেবে কুশনারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

‘বেটা’ অ্যাকাউন্টে ১০০ কোটি ডলার পাঠানোর অভিযোগ

বইটির বর্ণনা অনুযায়ী, সৌদি ও আমিরাতের নেতৃত্ব কুশনারের মধ্যস্থতায় ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতিতে প্রভাব বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির লক্ষ্যে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের একটি যৌথ তহবিল গড়ে তুলেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই তহবিলের অংশ হিসেবে আজারবাইজানের মাধ্যমে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ‘বেটা’ নামে একটি কথিত গোপন অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০০ কোটি ডলার পাঠানোর দাবি করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টটি তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নজরদারিতে পরিচালিত হতো এবং পরে অর্থ সাইপ্রাসের বিভিন্ন ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব লেনদেনের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতা সুসংহত করা এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন, অভিযোগ অস্বীকার কুশনারের

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কুশনারের বিদেশি ব্যাংক হিসাব বা সংশ্লিষ্ট আর্থিক স্বার্থ থাকলে তা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। মার্কিন আইন ও কর-সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদেশি আর্থিক সম্পদ বা স্বার্থের তথ্য প্রকাশের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট হিসাবের অস্তিত্ব, কুশনারের নিয়ন্ত্রণ এবং কোনো আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত না হলে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

কুশনার এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও মনগড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো ব্যাংক হিসাবের অস্তিত্ব ছিল না। তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্টের অনুমতি নিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সব মিলিয়ে, বইটিতে বর্ণিত কথিত আর্থিক লেনদেন ও ডিজিটাল নজরদারির দাবি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুললেও অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন যাচাই, আর্থিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ার-এ প্রকাশিত ম্যাথু কোলের প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস বইয়ের অংশ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad