বিদেশের মাঠে বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণ মানসিকতা ও সাহসের অভাব: হৃদয়

  • প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৮ বিকাল
  • ৪৩৮৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ব্যাটিং ধস নিয়ে আত্মসমালোচনা, কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়ার তাগিদ

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ব্যর্থতার পেছনে ব্যাটারদের মানসিকতা ও সাহসের ঘাটতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক ও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে প্রতিকূল কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া, চাপ সামলানো এবং প্রয়োজনের সময় দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। শুধু পরিকল্পনা ও ট্রফি জয়ের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেই হবে না, তার প্রতিফলন থাকতে হবে মাঠের পারফরম্যান্সে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন হৃদয়। লিগ পর্বে টানা দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। দলের ব্যাটিং ইউনিটের ব্যর্থতায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, দেশের বাইরে ভালো করতে হলে ব্যাটিংয়ে আরও উন্নতি জরুরি।

দুই ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৭২ রানে। ম্যাচটি ৯৯ রানে হারে দল। একপর্যায়ে ১২৯ রানেই সাত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও ব্যাটিংয়ের একই চিত্র দেখা যায়। মাত্র ২৮ রানে চার উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৬০ রানে। আফগানিস্তান ৮৭ বল হাতে রেখে সাত উইকেটে জয় তুলে নেয়।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় বলেন, শেষ দুই ম্যাচে ব্যাটাররা খুব খারাপ খেলেছেন এবং এর খেসারত দিতে হয়েছে পুরো দলকে। ঘরের মাঠে সাফল্য থাকলেও বিদেশের কন্ডিশনে ব্যাটিং ইউনিটের উন্নতির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

‘রক্ষণাত্মক মানসিকতায় সফল হওয়া কঠিন’

বিদেশের মাটিতে ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন হৃদয়। তাঁর মতে, পেশাদার ক্রিকেটারদের দায়িত্ব হলো প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশন অনুযায়ী দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নেওয়া।

হৃদয়ের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রয়োজনীয় সাহস নিয়ে মাঠে নামা হচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে ভাবতে হবে। তাঁর মতে, রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে এ পর্যায়ে সফল হওয়া কঠিন।

শুরুতেই কয়েকটি উইকেট পড়ে গেলে ইনিংস সামলে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, ব্যাটিং ধস শুরু হলে পুরো দল একসঙ্গে চাপে পড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট ও কার্যকর করতে হবে।

কঠিন সময়ে দায়িত্ব নেওয়ার খেলোয়াড় কোথায়?

চাপের মুহূর্তে দলকে টেনে তোলার মতো পারফরমারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন হৃদয়। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি দলেরই এমন খেলোয়াড় থাকে, যাঁরা কঠিন পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেন। বাংলাদেশেরও অন্তত এক-দুজন খেলোয়াড়কে এ ধরনের পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসতে হবে।

বড় সিরিজ, ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতা, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপের আগে ট্রফি জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে আত্মসমালোচনা করেন তিনি। কথা ও পরিকল্পনাকে বাস্তব পারফরম্যান্সে রূপ দিতে না পারাকে দলের বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন এই ক্রিকেটার।

ঘরের মাঠে সাফল্য, বিদেশে হতাশা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ছয়টি ওয়ানডে জিতেছে, হেরেছে তিনটিতে। অন্যদিকে বিদেশের মাঠে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে জয় এসেছে মাত্র একটিতে, হার চারটিতে। ২০২৩ সালের মে মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

তবে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর প্রসঙ্গ তুলে হৃদয় বলেন, এক-দুটি ম্যাচ বা সিরিজের ভিত্তিতে পুরো দলকে বিচার করা ঠিক হবে না। তাঁর বিশ্বাস, দল সামগ্রিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও বিদেশের মাঠে ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা দলকে পিছিয়ে দিচ্ছে।

হৃদয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সাফল্য বাড়াতে কেবল কারিগরি প্রস্তুতি নয়, মানসিক দৃঢ়তা, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং চাপের মধ্যে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের উন্নতিও জরুরি।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ, ২৩ অক্টোবর ২০২৬; তাওহিদ হৃদয়ের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ও প্রতিবেদনে উল্লেখিত পরিসংখ্যান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad