জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তাঁর মতে, ৫ আগস্ট যারা রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন ও লড়াই করেছেন, তাঁদের সম্পৃক্ততা ছাড়া এককভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার অর্থ ক্ষমতার জোর দেখানো।
রোববার (২৫ অক্টোবর) জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সংশোধন কমিটির ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নশিশির মনির বলেন, আগের দিনও সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক হয়েছে। তবে এই কমিটির অবস্থান কী, তাদের ক্ষমতা কতটুকু এবং তারা কী করতে পারে—সেসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান সংগঠিত করা প্রধান শক্তিগুলোকে বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা টেকসই হবে না। ৫ আগস্টের ঘটনা না ঘটলে সংবিধান সংশোধনের প্রেক্ষাপটই তৈরি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিশির মনিরের ভাষ্য, অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধন করা হলে সেই উদ্যোগের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
পঞ্চদশ সংশোধনীর উদাহরণসংবিধান সংশোধনের উদ্যোগের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিশির মনির আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল, যার মাধ্যমে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট ওই সংশোধনী বাতিল করে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমান সংশোধনী উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই আইনজীবী।
‘ক্ষমতার জোর দেখানো ছাড়া অর্থ নেই’শিশির মনির বলেন, সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁদের মধ্যেও প্রশ্ন রয়েছে—যাঁরা সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, তাঁরা কি জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন?
তাঁর মতে, অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ টেকসই করা কঠিন। এ ধরনের উদ্যোগ ক্ষমতার জোর দেখানো ছাড়া অন্য কোনো অর্থ বহন করে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক