নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন সদস্য আবদুল মান্নানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এ কমিটি গঠনের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার দিদারুল আলমও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এনসিপির নোয়াখালী জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী মাঈন উদ্দীন তানভীর ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ছয় মাসের জন্য এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটিতে আবদুল মান্নানকে আহ্বায়ক, খন্দকার দিদারুল আলমকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ ফারুককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
সাবেক জামায়াত ও শিবিরের দায়িত্বে ছিলেন মান্নানআবদুল মান্নান জামায়াতের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সুবর্ণচর উপজেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
উপজেলা জামায়াতের আমির জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৫ আগস্টের পর শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে আবদুল মান্নানের রুকন সদস্যপদ বাতিল করা হয়। এর আগে দীর্ঘ এক বছর তাঁর পদ স্থগিত ছিল। পরে তিনি নিজ ইচ্ছায় এনসিপিতে যোগ দেন। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের কিছু বলার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কমিটি ঘোষণার পর পদত্যাগের ঘোষণাকমিটি অনুমোদনের দিন রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন খন্দকার দিদারুল আলম।
দিদারুল আলমের অভিযোগ, সুবর্ণচরে এনসিপির কার্যক্রম শুরুর আগে থেকেই তিনি মাঠপর্যায়ে সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। অথচ সম্প্রতি সংগঠনে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। জেলা পর্যায়ের নেতারা অনৈতিক ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি তাঁর।
তবে ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও জেলা কমিটির কাছে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কাজী মাঈন উদ্দীন তানভীর।
অভিযোগ অস্বীকার জেলা আহ্বায়কেরকমিটি গঠনে অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী মাঈন উদ্দীন তানভীর বলেন, উপজেলা সংগঠকদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছিল। পদপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের পাশাপাশি সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, খন্দকার দিদারুল আলম সাক্ষাৎকার দেননি এবং জীবনবৃত্তান্তও জমা দেননি। তবে সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকায় তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের কথা বললেন আহ্বায়কনবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান বলেন, স্থানীয়ভাবে সবার সঙ্গে আলোচনা করে জেলা কমিটির কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছিল। জেলা কমিটি যাঁকে যোগ্য মনে করেছে, তাঁকেই আহ্বায়ক করেছে। এ নিয়ে তাঁদের কোনো দ্বিমত নেই।
দিদারুল আলমের পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে আবদুল মান্নান দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে জেলা কমিটির কাছে কিছু লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ থাকায় তাঁকে আহ্বায়ক করা হয়নি। এরপরও তাঁদের অনুরোধে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক