কোরবানির ঈদ সামনে: ভারতীয় গরু চোরাচালান বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি খামারিদের

  • এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ১৭ মে ২০২৬, ০৩:০৮ দুপুর
  • ৩০১০২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

কোরবানির ঈদ সামনে: ভারতীয় গরু চোরাচালান বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি খামারিদের

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে জমে উঠতে শুরু করেছে বেচাকেনা। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও ভারতীয় গরু চোরাচালানের শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দেশীয় খামারিরা। তারা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন এবং বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন।

যশোরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম সাতমাইল পশুর হাটে ইতোমধ্যে ছোট-বড় গরু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন খামারিরা। দুপুরের পর থেকেই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক বিক্রেতা।

খামারিরা জানান, খাদ্য ও পরিচর্যা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গরু পালনে খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাজারে সেই অনুযায়ী দাম মিলছে না। একাধিক বিক্রেতার অভিযোগ, প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা খরচের গরুর দাম ক্রেতারা ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলছেন। এতে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের খামারিরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেলার প্রায় ১৯ হাজার খামারি ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশের শঙ্কায় রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, সারা বছর কষ্ট করে গরু পালন করলেও ঈদের আগে ভারতীয় গরু বাজারে ঢুকে পড়লে দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারিরাও জানিয়েছেন, প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু বাজারে প্রবেশ করায় দেশীয় পশুর ন্যায্যমূল্য ব্যাহত হয়। তাই সীমান্তে কঠোর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে খামারিদের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ বা অবৈধ কোনো পথেই যেন গবাদিপশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি।

লালমনিরহাট বিজিবি-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি ইমাম বলেন, “দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং যেকোনো অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষা ও কোরবানির পশুর বাজার স্থিতিশীল রাখতে অবৈধ গরু চোরাচালান বন্ধের পাশাপাশি সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad