ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট স্টেশন প্রধানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২১ মে ২০২৬, ০৬:৪০ বিকাল
  • ৩২৫৮৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট স্টেশন প্রধানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, ঈদযাত্রায় কোনো ওয়ার্কিং স্টেশনে অব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা বা জটিলতা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের প্রধানকে সবার আগে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে পাটুরিয়া ঘাটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ঈদে ঘরমুখো মানুষকে নিরাপদে তাদের প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। একইভাবে ঈদ শেষে কর্মস্থলে নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা ঘটলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারে ইতোমধ্যে ফেরিঘাটের পন্টুনে উঁচু ও মজবুত নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। যাত্রীদের বাস থেকে নেমে ফেরিতে ওঠার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নৌকা বা ট্রলার থেকে কোনো অবস্থাতেই লঞ্চে ওঠানামা করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি লঞ্চে দৃশ্যমান স্থানে ডিজিটাল ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ঈদুল আজহার আগে ও পরে মোট ১০ দিন, অর্থাৎ ২৩ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত দিনে-রাতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচলও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক অগ্রাধিকার পাবে।

সদরঘাটে যাত্রীসেবা বাড়াতে ট্রলি ও হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা রাখা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীচাপ কমাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা ঘাট এবং পূর্বাচলের কাঞ্চন ব্রিজসংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে শিমুলিয়া ঘাট পর্যন্ত বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিসও চালু থাকবে।

কোরবানির পশুবাহী নৌযানকে ঘাটে ভেড়ানো নিয়ে কোনো ধরনের টানাটানি করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন ঘাটে পশু আনলোড করা হবে তা নৌযানে দৃশ্যমান ব্যানারে উল্লেখ রাখতে হবে।

নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীদের জরুরি প্রয়োজনে বিআইডব্লিউটিএ’র হটলাইন ১৬১১৩, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সরকারি তথ্যসেবা ৩৩৩, ফায়ার সার্ভিস ১০২, কোস্ট গার্ড ১৬১১১, নৌপুলিশ ০১৭৬৯-৭০২২১৫ এবং ‘অপারেশন জিরো মিসিং’-এর ০১৩২০০০২১৭ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, লঞ্চ ও স্পিডবোট মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad