তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ইতিহাসের বাস্তবতা একসময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আর তখন ইতিহাস বিকৃতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক বয়ান টিকে থাকতে পারে না। অতীতে কিছু ফ্যাসিবাদী শক্তি রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে বিভক্ত ও মেরুকরণের চেষ্টা করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘আমরা বাংলাদেশি’ আয়োজিত ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের শক্তি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সত্য ইতিহাসের ধারাবাহিকতা সব ধরনের কৃত্রিম ও বিকৃত বয়ানকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, “ইতিহাস যখন সত্য ভাষায় কথা বলে, তখন ইতিহাস বিকৃতকারীদের পরিণতি জনগণই নির্ধারণ করে।”
বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে এ দেশের মানুষ একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের জনগণকে নিজেদের পরিচয়ের বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য অন্য কারও স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না। দেশের স্বকীয়তা ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এ দেশের ইতিহাস ও বাস্তবতার মধ্যেই নিহিত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার গতিপথ নির্ধারিত হয় জনগণের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। ধার করা কিংবা কৃত্রিম কোনো বয়ান নয়, বরং জনগণের নির্মিত রাজনৈতিক দর্শনই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। এ ধরনের জনমুখী বয়ান গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয়কে একটি রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে রূপ দিয়েছিলেন। ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ জাতীয়তাবাদ আজও রাষ্ট্রচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হওয়া উচিত। দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি সার্ককে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিএনপি নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার