বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু দাবি করেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি; তিনি পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে নোয়াখালীর চৌমুহনী পাবলিক হল প্রাঙ্গণে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, অতীতে অযোগ্য ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি বানানোর কারণে দেশে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। তার ভাষ্য, যারা কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ারও যোগ্য ছিলেন না, তারাই দলীয় প্রভাবে মেয়র ও সংসদ সদস্য হয়েছেন। এসব ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং, অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী চক্র গড়ে ওঠে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অন্যতম কারণ।
তিনি আরও বলেন, অস্ত্র ব্যবসা, ডাকাতি, খুন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে অতীতের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো বিশেষ অভিযান পরিচালনারও আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, বেগমগঞ্জে অস্ত্রধারী বা অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কোনো স্থান হবে না।
বুলু বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে অনেকেই ছবি তোলেন, কিন্তু সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে চেনা সম্ভব হয় না। তাই কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে আলেম সমাজ, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, সরকারের ঘোষিত জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য মাদক, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের বিস্তার ও কিশোর গ্যাং দমনে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও গতিশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির নেত্রী শামীমা বরকত লাকী, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাহফুজুল হক আবেদ, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকি, চৌমুহনী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মহসিন আলম, বিএনপি নেতা মোরশেদুল আমিন ফয়সাল মিয়া এবং যুবদল নেতা রুস্তম আলী।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক