বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হওয়ার প্রতিবাদে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার পূবালী চত্বরে বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলো হলো— দুর্যোগ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে।
পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুমিল্লা সার্কিট হাউসের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার ঘটনাস্থলে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী সাফিন আহমেদ বলেন, "গতকাল অনেক শিক্ষার্থী কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের দুর্ভোগ কেউ দেখেনি। তাই তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমি এখানে এসেছি।"
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের পরীক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, "বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকের পরীক্ষা ভালো হয়নি। এই ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দুর্যোগকালীন সময়ে পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"
উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ জুলাই) কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন অনেক শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা এ পরিস্থিতির জন্য শিক্ষামন্ত্রীর তদারকির ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক