চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নারী নিহত, হত্যা মামলায় ৬১ জনের নাম; গ্রেপ্তার আতঙ্কে জনশূন্য

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ দুপুর
  • ১২৭৯৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ট্যাটা বিদ্ধ হয়ে কোহিনূর আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. কাবিল মিয়া বাদী হয়ে ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মেঘনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিতাসের ভাটেরারচর গ্রাম প্রায় নারী-পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, গত ২৯ জুলাই রাতে দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নতুন ভাটেরাচরের মাইনুদ্দিন, মো. হান্নান, কাশেম ব্যাপারী, মো. রানা এবং মজিদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. সুরুজ মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই দুপুরে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গেলে চরবিনোদপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার সহযোগীরা তাদের মারধর করে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে ভাটেরারচর গ্রামের লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এর জের ধরে ওই দিন বিকেলে মেঘনার আলীপুর ও চরবিনোদপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তিতাসের ভাটেরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে চরবিনোদপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনূর আক্তারের গলায় ট্যাটা বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আলীপুর ও চরবিনোদপুর গ্রামের লোকজন ট্রলারযোগে নদী পার হয়ে ভাটেরারচর গ্রামে গিয়ে প্রায় ৩০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ভাটেরারচর গ্রামের বাসিন্দা আলতামুন নেছা, আফিয়া বেগম ও শামসুন্নাহার অভিযোগ করেন, হামলার পর তারা নিরাপত্তাহীনতায় গ্রাম ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। তারা নিরাপদে নিজ বাড়িতে ফিরে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং কোহিনূর আক্তার হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের দাবি জানান।

মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, চর দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনার চরবিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন এবং তিতাসের ভাটেরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় কোহিনূর আক্তার ট্যাটা বিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad