সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা নিরসনের পথ তৈরি হয়েছে। জাতীয়করণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে করা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আপিল বিভাগের ২৯ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২ জুলাই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর হওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা দূর হয়েছে। তাঁর মতে, এ রায় দেশের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জ্যেষ্ঠতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিরোধ২০১৭ সালে জাতীয়করণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। তাঁদের দাবি ছিল, জাতীয়করণের আগে বেসরকারি বিদ্যালয়ে চাকরির মেয়াদের ৫০ শতাংশ গণনা করে জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করতে হবে।
একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন স্কেল, আর্থিক সুবিধা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবিও জানান তাঁরা। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে চাকরির জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হয়।
নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগজাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আপিল বিভাগের রায়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর হওয়া এবং পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে নিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সূচি বা পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক