যমুনা সেতুর টোল আয়কে কাজে লাগিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg যমুনা সেতু

দেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। এর অংশ হিসেবে যমুনা সেতুর ভবিষ্যৎ টোল আয়কে ভিত্তি করে ১০ হাজার কোটি টাকার ‘যমুনা সেতু সুকুক আল-ইজারা’ ইস্যুর প্রস্তাব করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।


আইসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুকুকের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নতুন মহাসড়ক, বন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে সরকারের সম্পদের মালিকানা অক্ষুণ্ণ রেখেই ভবিষ্যৎ আয়কে আগাম অর্থায়নের উৎস হিসেবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইসিবির প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে একটি কৌশলগত প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে ব্যাংক ঋণ এবং বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নতুন একটি মডেল তৈরি হতে পারে।


আইসিবির চেয়ারম্যান ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। সেই অর্থ দিয়ে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। যমুনা সেতুতে নিয়মিত টোল আদায় হচ্ছে। তাই এই আয়কে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন করা প্রয়োজন।


২০ বছরের সুকুক প্রস্তাব


আইসিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, সুকুকের মেয়াদ হতে পারে ২০ বছর। মুনাফার হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির হারের সঙ্গে অতিরিক্ত দশমিক ৫ শতাংশ যোগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১০ বছর পর সুকুক প্রত্যাহারের সুযোগ রাখার বিষয়টিও প্রস্তাবনায় রয়েছে।


এ ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংবিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত (এসএলআর) পূরণের ক্ষেত্রে সুকুককে অনুমোদিত সিকিউরিটি হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এসব শর্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।


প্রস্তাবিত কাঠামোয় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) মূল সম্পদসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। আইসিবি ট্রাস্টি এবং আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।


টোল আয়কে অর্থায়নের ভিত্তি


আইসিবির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে চালুর পর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত যমুনা সেতু থেকে টোল বাবদ মোট ৯ হাজার ৩০৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ অর্থবছরে টোল আদায় হয়েছে ৭৪৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।


এই নিয়মিত আয়কে ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারের বিদ্যমান অবকাঠামো সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্য আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে আইসিবি।


রয়েছে ঝুঁকিও


তবে প্রস্তাবিত সুকুক কাঠামোয় কিছু ঝুঁকির বিষয়ও রয়েছে। যানবাহন চলাচল কমে যাওয়া, টোল আদায়ে বিঘ্ন, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা নীতিগত কারণে টোলহার বাড়ানো না গেলে প্রত্যাশিত আয় কমে যেতে পারে।


এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় টোল আয় থেকে পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য দায় পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত অর্থের একটি অংশ দিয়ে ‘সিংকিং ফান্ড’ বা সংরক্ষিত তহবিল গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারি গ্যারান্টি বা অন্য কোনো ক্রেডিট সহায়তা থাকবে কি না, সেটিও চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণের সময় স্পষ্ট করতে হবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামো অর্থায়নে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুসহ আয় সৃষ্টি করে এমন অন্যান্য সরকারি অবকাঠামোও এ ধরনের অর্থায়ন কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।


তবে ১০ হাজার কোটি টাকার সুকুক ইস্যু, এর আর্থিক শর্ত, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার—সবকিছুই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad