সীতাকুণ্ডে বিকল বাসের যাত্রীদের ওপর লরি, নারীসহ নিহত ৫

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০ দুপুর
  • ২৭৪১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
মহাসড়কের পাশে অপেক্ষার সময় দুর্ঘটনা, আহত ৬; লরি ও বাস জব্দ, চালক পলাতক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিকল বাসের যাত্রীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উঠে যায় একটি লরি। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নিহত পাঁচজনের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।

মঙ্গলবার রাতে সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা রয়েল গেটের কিছুটা উত্তরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন। বিকল বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।

বাস মেরামতের অপেক্ষায় ছিলেন যাত্রীরা

হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে কিশোরগঞ্জগামী ‘শাপলা পরিবহন’-এর একটি বাস যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মহাসড়কে বিকল হয়ে পড়ে। চালক বাসটি মেরামতের কাজ শুরু করলে কয়েকজন যাত্রী নেমে সড়কের পাশে অবস্থান নেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গাছের গুঁড়ির ওপর বসে ছিলেন।

এ সময় দ্রুতগতির একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান। আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

লরি আটক, চালক পলাতক

সীতাকুণ্ড হাইওয়ে থানার ওসি সার্জেন্ট শামীম বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। আহত ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানোর পর আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে নিহত তিনজনের মরদেহ সীতাকুণ্ড থানায় রাখা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করতে কিশোরগঞ্জের সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। হাসপাতালে মারা যাওয়া দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলছে।

দুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি আটক করা হয়েছে, তবে চালক পালিয়ে গেছেন। বিকল বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

মহাসড়কে যানবাহন বিকল হলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি দুর্ঘটনার পর নতুন করে সামনে এসেছে। বাস মেরামতের সময় যাত্রীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, পেছনে সতর্কসংকেত দেওয়া হয়েছিল কি না এবং লরিটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

স্বজনদের কাছে ফেরার পথে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ, জহিরুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম); প্রকাশিত ও হালনাগাদ প্রতিবেদন, ২৭ অক্টোবর ২০২৬।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad