হাতীবান্ধা সীমান্তে বাঘের আতঙ্ক, আহত ৩; রাতভর পাহারায় গ্রামবাসী

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ দুপুর
  • ২৫৪০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ড্রোনে তল্লাশি চালাচ্ছে বিজিবি, উদ্ধার অভিযানে বন বিভাগ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে আসা একটি বাঘের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী। বাঘের আক্রমণে এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বাঘটিকে শনাক্ত ও নিরাপদে উদ্ধারে বিজিবি, বন বিভাগ ও পুলিশ কাজ করছে। স্থানীয়রা টর্চলাইট হাতে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন। সতর্কতা জারি করে এলাকায় মাইকিংয়ের পাশাপাশি ড্রোন দিয়েও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল সীমান্ত এলাকায় রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

ছাগল খুঁজতে গিয়ে বাঘের আক্রমণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে বাঘের আক্রমণের শিকার হন শরীফা বেগম। তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে আরও দুজন আহত হন। আহত তিনজনের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপরজন হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরীফা বেগমের অভিভাবক মমিনা বেগম জানান, ছাগল খুঁজতে গিয়ে বাদামবাড়ি এলাকায় ধানক্ষেতে কিছু একটা নড়াচড়া করতে দেখেন তাঁরা। কাছে গিয়ে একটি বাঘকে ছাগলটি মেরে ফেলে রাখতে দেখা যায়। পরে পাশে বাঁশ কাটতে যাওয়া শরীফার ভাসুরসহ দুজন ছাগলটির কাছে গেলে বাঘটি তাঁদের ওপর হামলা চালায়।

ড্রোনে তল্লাশি, সীমান্তে সতর্ক বিজিবি

খবর পেয়ে ১৫ বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এরপর বাঘটি পাশের জঙ্গলে চলে যায়। এর অবস্থান শনাক্ত করতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি।

জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটিকে উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করেন। ড্রোনের ফুটেজ থেকে পাওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজিবির অধিনায়ক। বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয়দের আতঙ্ক কমাতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে উদ্ধার না করা পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

মাঠে কাজ ও মাছ ধরতে ভয়

বাঘের উপস্থিতির খবরে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিজমিতে কাজ করা, ছোট খাল-নদীতে মাছ ধরা এবং পারাপার নিয়েও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বকুল মিয়া বলেন, বাঘের ভয়ে সীমান্ত এলাকার মানুষ জঙ্গলসংলগ্ন জমিতে চাষাবাদ ও খাল-নদীতে মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। দ্রুত বাঘটিকে উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুন রহমান জানান, বাঘের আক্রমণে আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাঘটি নিরাপদে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটছে না সীমান্তবাসীর। দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad