শহীদদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি, ষড়যন্ত্রে পা দেব না: মামুনুল হক

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ দুপুর
  • ৩৪০২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ১১ দলের

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের দাবিতে হাজার হাজার শহীদের রক্তের দায় নিয়ে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তে পা দেবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।

তিনি বলেন, ১১ দলের ঐক্য শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি জনগণের ঐক্য। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা ও ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করার লড়াইয়ে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। সময়ের সঙ্গে এ ঐক্যের পরিসর আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ

বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতা ও মহাসচিবরা অংশ নেন। আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা ছিল বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য।

মামুনুল হক জানান, গণভোটের রায় কার্যকরসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট সমাধানের দাবিতে এর আগে চট্টগ্রাম ও রংপুরে লংমার্চ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। এর ধারাবাহিকতায় ৩১ অক্টোবর তৃতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।

সেদিন সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে লংমার্চ কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।

কর্মসূচির মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দলীয়করণ বন্ধ, শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড, জুলাই গণহত্যা ও শাপলা চত্বরের গণহত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দাবি তোলা হবে বলে জানান তিনি।

গোপালগঞ্জে বাধার আশঙ্কা করছেন না

সম্প্রতি গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লংমার্চ চলাকালে সেখানে কোনো হামলার আশঙ্কা করছেন কি না—এমন প্রশ্নে মামুনুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকলে এ ধরনের আশঙ্কা নেই। তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই কর্মসূচি পালন করবেন।

তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে বলে তাঁরা আশা করছেন। কোনো দুরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হলে তা রাজপথে মোকাবিলা করা হবে। গোপালগঞ্জ প্রশাসনকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে।

আগের দুই লংমার্চের মতো এবারও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন এবং কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি

সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, সংসদ ও রাজপথে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে তাঁরা সহনশীল কর্মসূচি পালন করে আসছেন। কিন্তু সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণে আগ্রহী নয় বলে তাঁদের মনে হচ্ছে।

জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি সরকারকে জনগণের মনোভাব অনুধাবনের আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন মামুনুল হক। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগ এবং ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানান তিনি। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হলে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন।

পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বিচারবহির্ভূত ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসা আতঙ্কজনক।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও সংসদ অধিবেশন নিয়েও প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের সফরসঙ্গীদের তালিকা নিয়েও সমালোচনা করেন মামুনুল হক। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব বা প্রটোকল নেই, তাঁদের সফরসঙ্গী করায় রাষ্ট্রীয় সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আসন্ন সংসদের চতুর্থ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে তাঁরা সন্দিহান। অধিবেশনের আগে বিরোধী দল আবার বৈঠকে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।

এদিকে ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যাঁরা এ অভিযোগ করছেন, তাঁরা সম্ভবত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন; তাই তাঁরাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad