অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, জমির বিরোধও আছে: কুয়াকাটায় ইস্তানবুল রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ দুপুর
  • ১১৩০০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
মাস্টারপ্ল্যানে রেলওয়ের জন্য বরাদ্দ জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ প্রশাসনের; প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, অনুমতির আবেদন করা হয়েছে

পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ চলার অভিযোগে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ পদক্ষেপ নেয়। নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞার ব্যানারও টাঙানো হয়েছে। এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় নির্মাণকাজ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনুমোদন ছাড়া নির্মাণের অভিযোগ

নির্মাণস্থলে টাঙানো ব্যানারে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় নির্দেশক্রমে এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন।

পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে জমিটি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমান বিএস জরিপ অনুযায়ী জমিটি কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন বলেও জানান তিনি।

প্রায় ২২ একর জমিতে প্রকল্প

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের কাজ চলছিল। প্রকল্প এলাকায় একটি মসজিদ ও কনভেনশন হল নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছিল।

চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকায় অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়ন এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা

প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান দেওয়ানি আদালতে জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও ও নাথাও।

তবে জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে জমিটির মালিকানা এবং প্রকল্পের নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদনের বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে

নির্মাণকাজ বন্ধের বিষয়ে প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনির মুসুল্লী বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরেও আবেদন করা হয়েছে। কুয়াকাটা পৌরসভা থেকেও অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নির্মাণকাজ বন্ধের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন মনির মুসুল্লী। তবে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে সংশ্লিষ্ট নথি বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বিষয়ে স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বিনিয়োগের প্রচারণা

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নাম ও ছবি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটিকে ‘বাংলাদেশের হালাল ট্যুরিজম’ হিসেবে প্রচার করে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রচারণায় পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটির শেয়ারের মালিক হওয়ার সুযোগের কথাও বলা হয়েছে।

তবে প্রকল্পটির জমির মালিকানা, নির্মাণের অনুমোদন এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad