ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবীকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা তাদের ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যান। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জয় বাংলা ব্রিগেডের একটি জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দায়ের করা মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী, কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা দাবি করেন, মামলায় সরকার উৎখাত বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের কোনো উপাদান নেই। রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যেই তাদের মক্কেলদের আটক রাখা হয়েছে এবং আসামিরা নির্দোষ।
এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা বার ইউনিটের সদস্যসচিব নিহার হোসেন ফারুকসহ কয়েকজন আইনজীবী সেখানে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হলে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবীকে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এ সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। ঘটনার ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদেরও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব নিহার হোসেন ফারুক বলেন, “এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। ব্যক্তিগত টাকা-পয়সার লেনদেনসংক্রান্ত একটি বিষয় ছিল। আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে গিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।”
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবী গোলাম রাব্বানী ভিন্ন দাবি করে বলেন, “জয় বাংলা স্লোগানকে কেন্দ্র করেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমাদের আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে গিয়ে বলা হয়, বিভিন্ন চাপের কারণে এ ধরনের স্লোগান ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি যেন আর সৃষ্টি না হয়। পরে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, শুনানি শেষে আদালতে উপস্থিত আসামিপক্ষের সমর্থক কয়েকজন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করলে মূলত সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার