৫৫ বছরের ইতিহাস বদলাতে মাঠে বিএনপির সেলিম রেজা
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে দীর্ঘ ৫৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস পাল্টাতে কোমর বেঁধে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সেলিম রেজা।
স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে আজ পর্যন্ত বিএনপির কোনো প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবার সেই ধারা ভাঙার প্রত্যয়ে মাঠে সরব বিএনপি। সুযোগ এসেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনী প্রচারণায় সেলিম রেজা ছুটে বেড়াচ্ছেন পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে। নদীভাঙন কবলিত এই আসনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত এক করে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি তুলে ধরছেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নানা প্রতিশ্রুতি। বাবার ও নিজের ব্যক্তি ইমেজকে পুঁজি করে আসনটি বিএনপির দখলে নিতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন তিনি।
তাকে বিজয়ী করতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সব মান-অভিমান ও ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য—প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করা।
এ আসনে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য থাকলেও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে শফিকুল ইসলাম বিজয়ী হন। এরপর ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন শহীদ এম মনসুর আলীর ছোট ছেলে মোহাম্মদ নাসিম জয়ী হন। ১৯৯৬ সালে তিনি দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হলে সিরাজগঞ্জ-১ আসনটি ছেড়ে দেন। ওই আসনে উপনির্বাচনে তার বড় ভাই মোহাম্মদ সেলিম বিজয়ী হন। পরে ২০০৮ ও ২০২০ সালের উপনির্বাচন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জয়ী হন মোহাম্মদ নাসিমপুত্র প্রকৌশলী তানভীর শাকিল।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ দলটির।
এবার এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সেলিম রেজা ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা শাহীনুর আলম। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৪ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী ভোটার ও আওয়ামী লীগপন্থী ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করতে পারে।
তবে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে বিএনপির প্রার্থী সেলিম রেজাই বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন স্থানীয় ভোটার ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এ আসনে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। আমি বিজয়ী হলে নদীভাঙন রোধ, চরাঞ্চলবাসীর স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং মাদক-সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি জনপদ গড়ে তুলতে কাজ করবো।” তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান।

এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক