ভোটাধিকার, উন্নয়ন ও উল্লাপাড়া–সলঙ্গার ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন বিএনপি'র পরীক্ষিত নেতৃত্বই একমাত্র পথ।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার, ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের অঞ্চল, কৃষিনির্ভর জনপদ, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সফল গৌরবময় জনপদ উল্লাপাড়া–সলঙ্গার সকল সচেতন বিপ্লবী মানুষকে আমি ভোট উৎসবের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
গত ১৫–১৬ বছর ধরে আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষার সংগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পতাকার নিচে আমরা রাজপথে ছিলাম। আপনাদের ভোটের অধিকারের জন্য আমরা রোদে পুড়েছি, বারুদের গন্ধ শরীরে নিয়েছি, বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও পুরনো শকুনেরা নতুন রূপে ফিরে এসে আবারও আপনাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তারা আপনাদের ভোটের অধিকার হরন করতে আজও তৎপর। তবুও আমরা একইভাবে, একই দৃঢ়তায় আপনাদের ভোটাধিকারের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।
প্রিয় ভোটারবৃন্দ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য যে ইশতেহার দিয়েছে, তা ইতোমধ্যেই আপনারা দেখেছেন। এই ইশতেহারে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃসংযোজনের অঙ্গীকার রয়েছে।
ইমাম ও মুসল্লিদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, তাদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে। কওমি ও মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও উন্নত করা হবে।
নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রত্যেক নারীকে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।
কৃষিখাতে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে স্বল্পসুদে অল্প সময়ের জন্য ঋণ পাওয়া যাবে এবং সহজলভ্যে সার ও কীটনাশক মিলবে। পাশাপাশি কৃষি বিমা ব্যবস্থা চালু করা হবে।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য প্রবাসী কার্ড দেওয়া হবে এবং তাদের ভিআইপি মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতে ইউনিয়ন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন করা হবে। এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। একটি স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে সকল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। বিএনপির স্বাস্থ্যনীতি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।
খেলাধুলাকে অবশ্যই পেশা হিসেবে রূপান্তর করা হবে।
শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে। বিদেশি কারিকুলাম পরিবর্তন করা হবে। ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব চালু হবে। ক্যাশ ফর এডুকেশন কার্যক্রম চালু হবে। মাদ্রাসাভিত্তিক গণশিক্ষা ও কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম নতুন করে চালু করা হবে।
পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হবে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হবে।
রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিডিআরকে তার আগের রূপে পুনর্গঠন করা হবে।
উল্লাপাড়া–সলঙ্গার মানুষ জানেন, এম আকবর আলী এমপি হওয়ার আগেই ১৯৭০ সালে আকবর আলী কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উল্লাপাড়াকে শিক্ষানগরী গড়ার কাজ শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় দলীয় চেয়ারপারসন তাকে এই এলাকার দায়িত্ব দেন। তিনি সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন এবং উল্লাপাড়াকে শিক্ষা নগরীতে রূপান্তরিত করেছেন।
এম আকবর আলী উল্লাপাড়া–সলঙ্গার উন্নয়নে পরীক্ষিত নেতৃত্ব। এখানে নতুন কাউকে এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ নেই। এলাকার অবশিষ্ট উন্নয়নকাজ শেষ করতে হলে অভিজ্ঞ নেতৃত্বই একমাত্র পথ।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অনেককেই নির্বাচন ছাড়া অন্য সময় এই উপজেলায় দেখা যায়নি। তারা একটি মাদ্রাসা, একটি কলেজ কিংবা একটি বৃক্ষরোপণও করেননি। অনভিজ্ঞ ও আনাড়ি কাউকে এলাকার দায়িত্ব দেওয়া যায় না।
বিগত সরকার এম আকবর আলীর এক টাকার দুর্নীতিও প্রমাণ করতে পারেনি। তিনি সৎ, জনপ্রিয় এবং মাটির মানুষের নেতা। আমাদের ভাষায় কথা বলেন, আমাদের সুখ–দুঃখ বোঝেন। তার সঙ্গে কথা বললে মনে হয় তিনি আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য।
১৯৭০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সরকারি আকবর আলী কলেজ, উল্লাপাড়া বিজ্ঞান কলেজ, মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুল এবং বড়হর স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষালাভ করা শিক্ষার্থীরা আজ স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখছেন। এই সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এম আকবর আলী একজন জীবন্ত কিংবদন্তি, আধুনিক উল্লাপাড়া ও শিক্ষানগরীর রূপকার।
তাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত আলোকিত উল্লাপাড়া গঠনে ধর্ম, বর্ণ, দল ও মত নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।
সবশেষে উল্লাপাড়া–সলঙ্গাবাসীর প্রতি আমার স্পষ্ট অনুরোধ—যারা আপনার আমার ভোটাধিকার হরণ করতে চায়, দেশদ্রোহী ভূমিকা পালন করে, জাল ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদেরকে বয়কট করুন। ভয় নয়, সচেতনতা ও ঐক্যের মাধ্যমেই ২০২৬ সালের নির্বাচনকে গণতন্ত্রের প্রকৃত উৎসবে পরিণত করতে হবে।
মোঃ রাকিব হোসেন খাঁন
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল
মিডিয়া ম্যানেজার, ৬৫ সিরাজগঞ্জ–৪ (উল্লাপাড়া–সলঙ্গা)।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক