সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে ; শফিকুর রহমান

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ রাত
  • ১৫৮৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। প্রতিটি জাতির নিজস্ব তাহজীব-তামাদ্দুন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি রয়েছে। কিন্তু নিজস্ব সংস্কৃতি লালন ও ধারণে পিছিয়ে পড়ার সুযোগে অপসংস্কৃতি সমাজে প্রভাব বিস্তার করেছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ’ আয়োজিত নাতে রাসূল ও কাওয়ালি সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের প্রতিবাদ শুধু মুখের বক্তব্য দিয়ে সম্ভব নয়। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে উপযুক্ত উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলেই একটি জাতিকে সুস্থ তামাদ্দুন ও সংস্কৃতির ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে। মানুষ ও সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে।

‘শিক্ষা ও সংস্কৃতি জাতির মেরুদণ্ড’

জামায়াত আমির বলেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি জাতির মেরুদণ্ড। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁর আন্দোলন যতটা সামাজিক ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল সাংস্কৃতিক। ধারণাগত পরিবর্তন আনাই ছিল মূল বিপ্লব। আল্লাহর মেহেরবানিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে সেই বিপ্লব সফলভাবে সাধিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সমাজের সব ক্ষেত্রে একটি বাস্তব আদর্শ উপস্থাপন করেছেন। কোরআন শুধু মুসলমানদের জন্য কিংবা শুধু মানুষের জন্য নাজিল হয়নি; সৃষ্টিজগতের শৃঙ্খলা বিধানের জন্যই তা নাজিল হয়েছে। যারা কোরআন অনুসরণ করবে তারা সৌভাগ্যবান হবে এবং যে জাতি তা অনুসরণ করবে, সে জাতি গৌরবময় হবে। আর যারা তা ছেড়ে দেবে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও অপদস্ত হবে।

‘মূল শিক্ষার দিকে ফিরে আসতে হবে’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের মূল শিক্ষার দিকে ফিরে আসতে হবে। এটি আমাদের তামাদ্দুনিক শিক্ষা, মনোজগত পরিবর্তনের শিক্ষা এবং আল্লাহ ও তাঁর বান্দার মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার শিক্ষা। একই সঙ্গে সৃষ্টির মধ্যে পারস্পরিক নির্মল ও পবিত্র ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরির শিক্ষাও এতে রয়েছে।

তিনি বলেন, যে সমাজে এ শিক্ষা বাস্তবায়িত হবে, সেখানে মানুষ পরস্পরকে সম্মান ও ভালোবাসবে।

শিক্ষকদের সম্মানের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি যার কাছ থেকে শিখব, তাকে আমি সম্মান করব না?’ অথচ বর্তমান সংস্কৃতি কী শিক্ষা দিচ্ছে—কলেজের প্রিন্সিপালকে টেনে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, কুয়েটের শিক্ষককে হত্যা করা হচ্ছে। এগুলো অপসংস্কৃতির প্রভাব।

দেশীয় সংস্কৃতি সংসদের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি আয়োজকদের অভিনন্দন ও শুকরিয়া জানান।

নাতে রাসূল ও কাওয়ালি সন্ধ্যা

অনুষ্ঠানে নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, নাত ও কাওয়ালি পরিবেশনের পাশাপাশি সিরাতগ্রন্থ প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন ও হাদিস ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। হাদিস ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার পুরস্কারও বিতরণ করা হয়।

দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি সাইফুল্লাহ মানছুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, লেখক ও সম্পাদক আবুল আসাদ, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান এমপি, অধ্যাপক মোক্তার আলী এমপি, কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ দেশবরেণ্য গুণীজনরা। অনুষ্ঠানে দেশের জনপ্রিয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সংগীত পরিবেশন করে।

পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ দেশব্যাপী ‘নাতে রাসূল (সা.)’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তিনটি বিভাগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কয়েকশ প্রতিযোগী অংশ নেন। বিচারকদের মূল্যায়ন এবং দর্শকদের ভিউ ও কমেন্টের ভিত্তিতে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা ১০ জনকে নির্বাচিত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad