চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিবন্দি হাজারো মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ রাত
  • ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি উঠে যাওয়ায় ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে প্লাবিত এলাকায় ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি আমবাগান ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলি ইউনিয়নের ১ হাজার ৮০০ পরিবার এবং শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর, উজিরপুর ও পাঁকা ইউনিয়নের ১ হাজার ১০০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচে পদ্মার পানি

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পদ্মা নদীর পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৯ মিটার। বিপৎসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।

এদিকে মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতেও পানি বাড়ছে। মহানন্দার খালঘাট গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা ১৯ দশমিক ৪৬ মিটার; বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার। পুনর্ভবার রহনপুর গেজ স্টেশনে পানি রয়েছে ১৯ দশমিক ৫২ মিটারে; বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী শনিবার পর্যন্ত পদ্মার পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।

২৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ

পানি উঠে যাওয়ায় সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নের ১২টি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার তিন ইউনিয়নের ১৭টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা বলেন, সদর উপজেলার ১২টি ও শিবগঞ্জ উপজেলার ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তবে অন্যত্র উঁচু স্থানে বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

১৩০ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি আক্রান্ত

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উজানের ঢল ও পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ১৩০ দশমিক ৪০ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে রোপা আমন, আউশ, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা, কলা, হলুদসহ বিভিন্ন ফসল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, যেসব রোপা আমন ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দুই-এক দিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে তেমন ক্ষতি হবে না। কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

খাবার পানির সংকট, বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানির উৎসগুলো ডুবে যাওয়ায় প্লাবিত এলাকায় তীব্র খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নিরাপদ পানি সংগ্রহে দূরদূরান্তে যেতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেড়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, পদ্মার পানি বাড়ায় তাদের এলাকা ডুবে গেছে। অনেক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা মুরশালিন বলেন, পানিবন্দি মানুষ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। সবকিছু ডুবে যাওয়ায় রান্নাবান্নাতেও সমস্যা হচ্ছে। অনেকে উঁচু করে মাচা তৈরি করে রান্নার কাজ করছেন। দ্রুত সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাফিউল ইসলাম বলেন, ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পাশাপাশি ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ বেড়েছে। বন্যার পানিতে হাঁটাচলা করায় অনেকের শরীরে চুলকানি দেখা দিয়েছে।

দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শুক্রবার থেকে প্রত্যেক পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, দুর্লভপুর, উজিরপুর ও পাঁকা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব পানিবন্দি মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় ডায়রিয়া ও কলেরার প্রকোপ যাতে মহামারি আকারে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন ও কলেরার স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে। চর্মরোগের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বন্যাকবলিত এলাকার চর্মরোগে আক্রান্তদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad