আইয়ামে বিজের রোজা: তাকওয়া, আত্মসংযম ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য সুযোগ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৯ দুপুর
  • ১২৮৬১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ তার রবের নৈকট্য লাভ করে। ইসলামে নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি রয়েছে নানা সুন্নাহ ও নফল আমল, যা একজন মুমিনের ঈমান, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমল হলো আইয়ামে বিজের রোজা।

আরবি ভাষায় ‘আইয়ামে বিজ’ অর্থ উজ্জ্বল বা শুভ্র দিন। হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে পূর্ণিমার আলোয় রাত উজ্জ্বল থাকে বলেই এ দিনগুলোকে আইয়ামে বিজ বলা হয়। ইসলামী শরিয়তে প্রতি আরবি মাসের এই তিন দিনে রোজা রাখার প্রতি বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তুমি যদি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতে চাও, তবে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখো।” (জামে তিরমিজি: ৭৬১)

আইয়ামে বিজের রোজা পালনের নিয়ম

আইয়ামে বিজের রোজা প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখা হয়। এ রোজার বিধান ফরজ রোজার মতোই। রোজা রাখার জন্য নিয়ত করা আবশ্যক। নিয়ত অন্তরে করাই যথেষ্ট, তবে ফজরের আগে বা রাতেই নিয়ত করা উত্তম। (সহিহ মুসলিম: ১১৫১)

এই রোজার ফজিলত

হাদিসে আইয়ামে বিজের রোজার অসংখ্য ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখে, তার জন্য তা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।” (সহিহ বুখারি: ১৯৭৯)

এ ছাড়া আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে তারা যেন বিয়ে করে। কারণ এটি দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা তার প্রবৃত্তিকে দমন করে।” (সহিহ বুখারি: ১৫৬৬; সহিহ মুসলিম: ১৪০০)

তাকওয়া ও আত্মসংযমের শিক্ষা

ইসলামী চিন্তাধারায় রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং এটি তাকওয়া, আত্মসংযম ও নৈতিক চরিত্র গঠনের অন্যতম মাধ্যম। রোজা মানুষের চোখ, কান, জিহ্বা ও নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায় এবং পাপ থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি মানুষকে উদারতা, ধৈর্য, মহানুভবতা ও আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে।

হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত হয়েছে, রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান স্বয়ং মহান আল্লাহ তাআলা প্রদান করবেন। এ ইবাদত মানুষের অন্তরে ঈমানকে দৃঢ় করে, কুপ্রবৃত্তি দমন করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সুগম করে।

ইসলামী শিক্ষার আলোকে, ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি আইয়ামে বিজের মতো সুন্নাহ রোজা পালনের মাধ্যমে একজন মুসলিম তাকওয়া অর্জন, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad