সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি শাওনকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার বিকেলে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুরের মিস্ত্রীপুকুর পাড় এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর রাত প্রায় ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর এলাকা থেকে পলাতক অবস্থায় শাওনকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি দল।
গ্রেপ্তার শাওন সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। ডিবি জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
হামলার শিকার সাংবাদিক তানভীর দীপু জানান, বুধবার দুপুরে তারা সংবাদ সংগ্রহের জন্য লালমাইয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পদুয়ার বাজার মোড় এলাকায় যানজট দেখে উত্তর রামপুর বিদ্যুৎ অফিসের সামনের সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়দের তৈরি লোহার ব্যারিকেডের কারণে কয়েকটি গাড়ি আটকে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
তানভীর দীপুর ভাষ্য অনুযায়ী, যানজটের কারণ জানতে তিনি সামনে এগিয়ে গিয়ে ব্যারিকেড সরিয়ে একে একে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করছিলেন। এ সময় শাওন এসে কেন যানজট নিরসনে সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং মানুষকে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—এ নিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে শাওন তাকে ধাক্কা দেন।
পরে সহকর্মী আবদুল্লাহ আল মারুফ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন শাওন রড হাতে নিয়ে সাংবাদিকদের দিকে এগিয়ে আসেন। স্থানীয় লোকজন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর সাংবাদিকরাও ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে পেছন থেকে এসে শাওন হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন তানভীর দীপু।
এ ঘটনায় হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন—যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের কুমিল্লা ব্যুরো রিপোর্টার ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের তথ্যপ্রযুক্তি ও আপ্যায়ন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ।
আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু। তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় জেলা পুলিশ সুপার ও ডিবি পুলিশকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক