দেশীয় এলএসডি ভ্যাকসিনে কমবে খামারিদের ব্যয়: কৃষিমন্ত্রী

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৮ রাত
  • ৬১১৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) নিয়ন্ত্রণে দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তাঁর মতে, দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্ভব হলে বিদেশি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি খামারিদের ব্যয়ও কমবে এবং টিকার সহজলভ্যতা বাড়বে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাঁহ মাঠে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত এলএসডি ও গোটপক্স ভ্যাকসিনের টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। এতদিন বিদেশি ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে হলেও দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্ভব হলে খামারিদের খরচ কমবে। পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় টিকা পাওয়া সহজ হবে।

তিনি বলেন, একটি খামারে এলএসডি রোগ দেখা দিলে দ্রুত অন্যান্য গবাদিপশুর মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে গবাদিপশুকে টিকা দেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে খামারিদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গবাদিপশুর খাদ্য ব্যয় কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বিএলআরআই উদ্ভাবিত উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন নতুন ঘাস চাষের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, নতুন জাতের এই ঘাসে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। এটি চাষ করলে কম খরচে উন্নতমানের পশুখাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে এবং দানাদার খাদ্যের ওপর খামারিদের নির্ভরতা কমবে।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের ছাগল সরবরাহ এবং বিপণনে সহায়তা দেওয়া হবে। এতে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের মূল্যবান প্রাণিসম্পদ সম্পদ। এ ছাগলের মাংস ও চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পিত সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ খাত গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক খামারি উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পেইনের আওতায় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার গবাদিপশুর মধ্যে ২ হাজার ডোজ এলএসডি এবং ১০০ ডোজ গোটপক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad