নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৭ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ জন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।
ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধারের পর নেপাল সর্বশেষ হতাহতের এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
সীমান্তবর্তী নেপাল অংশে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯০০ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চৌলানি নদীর প্রবাহপথের প্রায় অর্ধেক বন্ধ হয়ে গেছে। অব্যাহত ভূমিধসের কারণে নদীটির প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নদীতীরবর্তী, নিচু এলাকা ও আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দারচুলা জেলা প্রশাসন।
এদিকে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, অর্থাৎ তিব্বতে, অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
নেপাল ও চীনের সরকারি তথ্য মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৮ জনে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৮৪৪ জন।
যেভাবে দুর্যোগের সূত্রপাতগত ২৬ আগস্ট প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় নেপালের মাউন্ট লাংটাং লিরুংয়ের একটি হিমবাহে ফাটল ধরার পর এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। এর ফলে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে। পরে তা ভয়াবহ ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হয়ে সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলো প্লাবিত করে।
বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং ও কাভ্রে জেলা এবং কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে চীনের শিজাং অঞ্চলের গিরং সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক