অব্যবহৃত ২৪ ট্রমা সেন্টার চালু হচ্ছে, থাকবে ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ দুপুর
  • ৩৯৫৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত দেশের মহাসড়কসংলগ্ন ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আধুনিকায়নের পর এসব কেন্দ্রকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে চালু করা হবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে ২৪টি কেন্দ্রেই চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।

গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে বিদ্যমান ট্রমা সেন্টারগুলোর নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

উদ্দেশ্য ছিল দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত চিকিৎসা

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে ২৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করা হয়। গুরুতর আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে প্রাণহানি কমানোই ছিল এসব কেন্দ্র স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

তবে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে বছরের পর বছর এসব কেন্দ্র অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। একটি কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল। এ ছাড়া ১০ জন নার্স, ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও অন্যান্য টেকনিশিয়ান থাকার কথা। কিন্তু কোনো কেন্দ্রেই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টারও বন্ধ

সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার এর একটি উদাহরণ। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর সর্বশেষ কোরবানির ঈদে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য এটি অস্থায়ীভাবে চালু করা হয়েছিল। পরে আবার বন্ধ হয়ে যায়।

২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে—পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবল।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা চব্বিশটি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে।’

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটিকে নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনার লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad