৪৫-এর আগেই মেনোপজ: লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ বিকাল
  • ২০৯৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
মেনোপজ নারীর জীবনের স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় পর্যায়। এ সময় স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হয়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সক্ষমতা শেষ হয়। সাধারণত ৫০ বছরের কোঠায় মেনোপজ শুরু হলেও ৪০ বছরের আগে হলে তাকে প্রিম্যাচিউর মেনোপজ এবং ৪৫ বছরের আগে হলে আর্লি মেনোপজ বলা হয়।

পরপর ১২ মাস মাসিক না হলে সাধারণত মেনোপজ হয়েছে বলে ধরা হয়। গড়ে ৫৩ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে স্বাভাবিক মেনোপজ হতে পারে। প্রিম্যাচিউর মেনোপজ প্রতি ১০০ জনে প্রায় একজন এবং আর্লি মেনোপজ প্রতি ২০ জনে একজন নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়।

তবে প্রাইমারি ওভারিয়ান ইনসাফিসিয়েন্সি (পিওআই) ও প্রিম্যাচিউর মেনোপজ এক নয়। পিওআইয়ের ক্ষেত্রে মাসিক অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে গেলেও কিছু ক্ষেত্রে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। অন্যদিকে প্রিম্যাচিউর বা আর্লি মেনোপজে মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

মেনোপজের শুরুর দিকে মাসিকের স্বাভাবিক চক্রে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। মাসিকের ব্যবধান কম-বেশি হওয়া, দুই মাসিকের মাঝখানে রক্তপাত বা স্পটিং এবং রক্তপাতের পরিমাণে পরিবর্তন হতে পারে।

এ ছাড়া দেখা দিতে পারে—

অতিরিক্ত গরম লাগা বা হট ফ্ল্যাশ এবং রাতে বেশি ঘাম হওয়া

যোনিপথে শুষ্কতা ও যৌনমিলনে অস্বস্তি

ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই)

ঘুমের সমস্যা ও মেজাজের পরিবর্তন

ত্বক, চোখ ও মুখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া

যৌন আকাঙ্ক্ষা বা লিবিডো কমে যাওয়া

মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে কিছুটা সমস্যা

ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া

কেন অল্প বয়সে মেনোপজ হয়

ডিম্বাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা ইস্ট্রোজেন হরমোন উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে অল্প বয়সে মেনোপজ হতে পারে। তবে প্রায় অর্ধেক নারীর ক্ষেত্রে এর সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা যায় না।

সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন, ডিম্বাশয় বা জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার, ক্রোমোজোমজনিত ত্রুটি যেমন টার্নার সিন্ড্রোম এবং কিছু অটোইমিউন রোগ—যার মধ্যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও থাইরয়েডের রোগ রয়েছে। এইচআইভি/এইডস ও মামসের মতো কিছু সংক্রমণও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

পরিবারে মা বা বোনের অল্প বয়সে মেনোপজের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ছাড়া ধূমপান এবং ১১ বছর বয়সের আগেই প্রথম মাসিক শুরু হওয়াকেও ঝুঁকির কারণ হিসেবে ধরা হয়।

কী ধরনের জটিলতা হতে পারে

অল্প বয়সে মেনোপজ হলে উপসর্গ তুলনামূলক তীব্র হতে পারে। দীর্ঘ সময় ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি থাকায় কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস, হৃদ্‌রোগ, বিষণ্ণতা এবং কিছু স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

৪৫ বছরের কম বয়সে মেনোপজের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসক রোগীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ইতিহাস পর্যালোচনা করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা, পেলভিক আল্ট্রাসনোগ্রাফি, হরমোনের মাত্রা নির্ণয়ে রক্ত পরীক্ষা এবং থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করা হতে পারে।

চিকিৎসা কী

চিকিৎসা নির্ভর করে মেনোপজের কারণ ও রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর। উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ এবং হরমোনের ঘাটতি পূরণে চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এইচআরটি) দেওয়া হতে পারে। তবে সবার জন্য এই চিকিৎসা উপযোগী নয়; বিশেষ করে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে এর ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।

অল্প বয়সে মেনোপজের কারণে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিলে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

মেনোপজ হলেও কি গর্ভধারণ সম্ভব?

পরপর ১২ মাস সম্পূর্ণভাবে মাসিক বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত গর্ভধারণের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। তবে প্রিম্যাচিউর বা আর্লি মেনোপজের ক্ষেত্রে অনিয়মিত ডিম্বাণু নির্গমনের কারণে গর্ভধারণ কঠিন হয়ে যেতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে আইভিএফ, ডোনার এগ বা সারোগেসির মতো সহায়ক প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

৪০ বছরের কম বয়সে মাসিক অনিয়মিত হওয়া, স্পটিং, হট ফ্ল্যাশ, অতিরিক্ত ঘাম বা যোনিপথে শুষ্কতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad