সঠিক পরিকল্পনা ও সৎ নেতৃত্বে ঢাকাকেও বদলানো সম্ভব: সেলিম উদ্দিন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ বিকাল
  • ৫১৭৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সৎ নেতৃত্ব থাকলে বিপুল জনসংখ্যার ঢাকাকেও উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব নগরীতে রূপ দেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়াকে নগর উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রয়োজন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও যোগ্য নেতৃত্ব।

শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটের একটি হোটেলে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এসব কথা বলেন সেলিম উদ্দিন। ‘রোমিং ফর ঢাকা নর্থ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাঁচটি দেশে সফরের অভিজ্ঞতা এবং রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বক্তব্য দেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক কল্যাণ নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নযোগ্য কি না, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিভিন্ন দেশের নগর ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নগর ব্যবস্থাপনার যেসব কার্যকর মডেল রয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশেও প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। সফরকালে বিভিন্ন দেশের মেয়র, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময়ের কথাও জানান তিনি।

নেতৃত্বে সততার ওপর গুরুত্ব

সৎ নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশের উন্নয়নে নেতৃত্বের মধ্যে সততা, দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকা জরুরি। কোনো ব্যক্তি কোন ধর্ম, দল বা আদর্শের—তার চেয়ে তিনি সৎ কি না, দায়িত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল কি না এবং দেশ ও মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা আছে কি না—এসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কোনিয়া শহরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শহরটির সঙ্গে ঢাকার জনসংখ্যা বা আয়তনের সরাসরি তুলনা না করে সেখানকার ব্যবস্থাপনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। জনসংখ্যা বেশি বলে নাগরিকসেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব—এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সফরসূচি তুলে ধরে তিনি জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে সফর শুরু হয়। প্রথমে মালয়েশিয়ায় তিন দিন, সিঙ্গাপুরে দুই দিন, ফিলিপাইনের বিভিন্ন এলাকায় চার দিন এবং পরে সৌদি আরব ও তুরস্ক সফর করেন। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দিন ও আঙ্কারায় এক দিন অবস্থান করেন। এরপর মক্কা-মদিনা সফর শেষে দেশে ফেরেন।

সিঙ্গাপুরের নাগরিকসেবা ও নগর ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, দেশপ্রেম ও সততার মাধ্যমে অল্প কয়েক দশকে দেশটি বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে।

ইস্তাম্বুল ও কোনিয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে কম খরচে মানসম্মত খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। মোবাইল ফোনে বাসের সময়সূচি, রুট ও টিকিটের তথ্য জানা যায়। দুর্ঘটনা বা সড়কে কোনো সমস্যা হলে দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্যায়ক্রমে ভিডিও ও তথ্যচিত্র তৈরি করে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেয়ার করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

হাসপাতালের ঘটনার তদন্ত দাবি

প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশে ফেরার পর মিরপুরের একটি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সেলিম উদ্দিন। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, শুধু কোনো একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগ বা দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঘটনাটি শেষ করা উচিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা না করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রকাশ্য ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।

তুরস্কের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে তিনি মিরপুরের হাসপাতালটির উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে মা ও শিশুর জন্য আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা, নিরাপদ পরিবেশ, বসার ব্যবস্থা, খাবারসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সরকার হাসপাতালটির উন্নয়নে ভালো কোনো উদ্যোগ নিলে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান সেলিম উদ্দিন। প্রয়োজনে দেশে-বিদেশে সহায়তা সংগ্রহেও ভূমিকা রাখার কথা বলেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত এবং মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad