ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদানের সুপারিশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ দুপুর
  • ৩৬২৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
৯–১৪ বছর বয়সী মেয়েদের অগ্রাধিকার, টিকাদানের আওতা বাড়াতে ৪–৮ বছর বয়সীদেরও বিবেচনার পরামর্শ

জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদানের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির টিকাদানবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের কৌশলগত পরামর্শক দল (এসএজিই) বলেছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে টিকাদানের হার ও আওতা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদেরও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে দেশগুলো। তবে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের টিকাদানই থাকবে প্রধান অগ্রাধিকার।

মঙ্গলবার হালনাগাদ বৈজ্ঞানিক তথ্য পর্যালোচনা করে এ সুপারিশ দেয় বিশেষজ্ঞ দলটি। ডব্লিউএইচওর মতে, বিশ্বজুড়ে এইচপিভি টিকাদানের বর্তমান হার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। ফলে আরও বেশি মেয়েকে সুরক্ষার আওতায় আনতে টিকাদান কর্মসূচিতে বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এসএজিইর চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী টিকাগ্রহণের হার প্রায় ৩৩ শতাংশ, যা ডব্লিউএইচওর নির্ধারিত ৯০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম।

এক ডোজের টিকায় বেশি মানুষকে সুরক্ষার লক্ষ্য

২০২২ সালে এসএজিইর সুপারিশে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক বা দুই ডোজ এইচপিভি টিকা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতির কথা বলা হয়। অন্যদিকে, ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের ছয় মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ ছিল।

পরবর্তী সময়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক ডোজ টিকা দেওয়ার পদ্ধতিকে টিকাদানের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনের কার্যকর উপায় হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছেন।

অ্যান্থনি স্কট বলেন, কোনো দেশে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকাদান চালু করলে যদি টিকাগ্রহণের হার ও আওতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে দেশটি এ বয়সসীমার মেয়েদেরও টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে এতে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের টিকাদানের অগ্রাধিকার পরিবর্তন হবে না।

২০২৪ সালে নতুন রোগী ৬ লাখের বেশি

এইচপিভির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ জরায়ুমুখের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে এ রোগে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হন। একই বছরে এ ক্যানসারে মারা যান প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ।

ডব্লিউএইচওর টিকাবিষয়ক বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে। তবে টিকাদানের হার এখনো বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে থাকায় কর্মসূচির আওতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছেলেদের টিকাদানেও গুরুত্ব

এইচপিভি টিকাদান সম্প্রসারণে এক ডোজের টিকা কর্মসূচি আরও কয়েকটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চালুর সুপারিশ করেছে এসএজিই। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত যেসব নারী নির্ধারিত বয়সে টিকা নিতে পারেননি, তাঁদের টিকার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের ক্ষেত্রে এ সুযোগ সম্প্রসারণের সুপারিশ রয়েছে।

পরবর্তী অগ্রাধিকার হিসেবে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়মিত টিকাদান এবং সবশেষে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত যেসব পুরুষ টিকা নেওয়ার সুযোগ থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচপিভির আটটি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে।

২৬ দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখের ক্যানসার। এসব দেশের অধিকাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার কিছু অঞ্চল, মেলানেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের আওতা বাড়ানো, উপযুক্ত বয়সে টিকা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad