নারায়ণগঞ্জে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২৫

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ রাত
  • ১৮৫৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
লিংক রোডে আড়াই ঘণ্টা অবরোধ, সাত-আটটি যানবাহন ভাঙচুর; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শ্রমিক, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় সাত থেকে আটটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জালকুড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম ও জালকুড়ি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সস্তাপুর এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা একত্রিত হয়ে একটি কারখানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা কারখানার ফটকে ধাক্কাধাক্কি করে ভেতরে থাকা শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনেন। পরে সস্তাপুর, রামারবাগ, কোতালেরবাগ, জালকুড়ি ও দেলপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার পোশাকশ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে কয়েক হাজার শ্রমিক পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শিবু মার্কেট ওভারপাসের নিচে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। শিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম ও জালকুড়ি এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন তাঁরা।

টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ

প্রথমে পুলিশ হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়। শ্রমিকদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। তবে শ্রমিকেরা দাবি আদায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কয়েক দফা বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জালকুড়ি এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরে রায়ট কার ও জলকামান নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। জবাবে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এ সময় চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালিয়েও বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা।

সড়কে আটকে থাকা কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকেও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাত থেকে আটটি যানবাহন ভাঙচুরের শিকার হয়।

পাল্টাপাল্টি আহতের দাবি

শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশের লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটে তাঁদের ১২ থেকে ১৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে তাদের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের (জোন-৪) পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকেরা আন্দোলনে ছিলেন না। বিকাল ৩টার কিছু আগে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বের হয়ে অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও সড়কে নিয়ে আসেন। পুলিশ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে প্রায় ১০০ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচলও শুরু হয়েছে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ৩ নভেম্বর ২০২৬; যুগান্তর প্রতিবেদন ও ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad