আয়কর রিটার্ন না দিলেই ৫ হাজার টাকা জরিমানা নয়, আইনে রয়েছে ভিন্ন বিধান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ দুপুর
  • ৫০৪৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। তবে ই-টিআইএন (e-TIN) থাকা প্রত্যেক করদাতার ক্ষেত্রেই এ অঙ্কের জরিমানা প্রযোজ্য নয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারা অনুযায়ী, করদাতার আগে আয় নিরূপণ হয়েছে কি না এবং রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার ধরন বিবেচনায় জরিমানার পরিমাণ নির্ধারিত হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ই-টিআইএন থাকা সত্ত্বেও আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে জরিমানা আরোপ করা হয়। তাই রিটার্ন জমা না দিলেই প্রত্যেক করদাতাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ হবে যেভাবে

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬(১) ধারা অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নির্ধারিত বিধানের আওতায় আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার জরিমানা আরোপ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা হতে পারে। তবে জরিমানার ন্যূনতম পরিমাণ এক হাজার টাকা।

এ ছাড়া রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।

কার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ৫ হাজার টাকা

আগে কখনো আয় নিরূপণ হয়নি—এমন ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে আইন নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা হতে পারে।

অন্যদিকে, আগে আয় নিরূপণ হয়েছে—এমন ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ অথবা এক হাজার টাকা—এই দুই অঙ্কের মধ্যে যেটি বেশি, সেটি জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ, করদাতার পূর্ববর্তী আয় নিরূপণের ইতিহাস ও প্রযোজ্য আইনি বিধানের ওপর জরিমানার হিসাব নির্ভর করে। এ কারণে সবার জন্য একই অঙ্কের জরিমানা নির্ধারিত নয়।

রিটার্ন জমার শেষ সময় কখন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাধারণ নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার প্রচলিত করদিবস ৩০ নভেম্বর। তবে কোনো নির্দিষ্ট করবর্ষে এনবিআর সময়সীমা বাড়ালে বর্ধিত সময়সীমা কার্যকর হবে।

গত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রিটার্ন দাখিলের স্বাভাবিক সময়সীমা ৩০ নভেম্বর থাকলেও পরে তা কয়েক ধাপে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছিল। ফলে চলতি করবর্ষের ক্ষেত্রে এনবিআরের সর্বশেষ ঘোষিত সময়সীমা যাচাই করে রিটার্ন দাখিল করা জরুরি।

সময়মতো রিটার্ন না দিলে করণীয়

নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে করদাতার উচিত প্রযোজ্য আইন ও এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা। দেরিতে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর বা জরিমানা প্রযোজ্য কি না, তা ব্যক্তির কর পরিস্থিতি ও আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে যাচাই করতে হবে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad